হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে ১৯ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল সোমবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসীর আদালতে মামুনুল হককে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। অপরদিকে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়ে কারগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
গত ১৮ এপ্রিল দুপুরে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৯ এপ্রিল মোহাম্মদপুর থানার মারধর, চুরি ও ভাঙচুরের মামলায় মামুনুল হকের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
এরপর ২৬ এপ্রিল ২০১৩ সালে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় পল্টন থানার মামলায় চার দিন এবং মোদিবিরোধী সহিংসতার ঘটনায় মতিঝিল থানার মামলায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। ৪ মে তৃতীয় দফায় পল্টন থানার পৃথক দুই মামলায় তার আরও ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে হেফাজতে ইসলাম। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকাসহ চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজত বিক্ষোভ-প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়। এসব ঘটনায় রাজধানীসহ বিভিন্ন থানায় এই আসামির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
সম্প্রতি সোনারগাঁওয়ের একটি রিসোর্টে নারীসহ অবরুদ্ধ হন মামুনুল হক। ঘটনার দিন সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্টে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় হেফাজতের নেতাকর্মীদের আসামি করে তিনটি মামলা হয়। এছাড়া পরে ওই ঘটনায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা হয়েছে।