ঈদ আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন

শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে বৃহস্পতিবার ঈদুল ফিতরের সম্ভাবনা রয়েছে, না হলে শুক্রবার ঈদ উদযাপিত হবে। ঈদ হচ্ছে, মহান আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন। মুমিন বান্দার পক্ষে আল্লাহর দরবারে নির্মল ও নিখাদরূপে উপস্থিত হওয়ার দিন। এ দিনের স্বচ্ছ, সুন্দর ও মধুর প্রভাতে মুমিন বান্দার মন কৃতজ্ঞতায় ভরে যায়। ঈদ মুসলমানদের জন্য অনন্য বৈশিষ্ট্যম-িত উৎসব বিশেষ। বিশ্বের মুসলমান সম্প্রদায় হিজরি দ্বিতীয় সাল থেকে রমজানের রোজা ও ঈদুল ফিতর উদযাপন করে আসছে। এদিন ঈদের নামাজ শেষের মোনাজাতে নিজের জন্য, দেশ-জাতির জন্য, গত হয়ে যাওয়া নিকটাত্মীয়-বন্ধু-বান্ধব ও সমগ্র মুসলিম জাহানের জন্য আল্লাহর কাছে বিশেষ দোয়া করা হয়।

মুসলমানদের কাছে ঈদ মিলন, ঐক্য ও সংহতির উৎসব। এ উৎসব আত্মকেন্দ্রিক কিংবা ঘরমুখো নয়। এ উৎসব সমাজমুখী, গণমুখী যা ভ্রাতৃত্বময় সমাজ গড়ার উৎসাহ জোগায়। ঈদ উৎসবের মধ্য দিয়ে নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিকতার মিলন ঘটে। ত্যাগ ও ভোগের সমন্বয় সাধিত হয়। উন্নত পোশাক ও ভালো রান্নাবান্নার মাধ্যমে যেমন বৈষয়িকতার প্রকাশ ঘটে- তেমনি দরিদ্রদের মাঝে খাদ্য বিতরণ ও আত্মীয়-স্বজনদের অধিকার আদায়ের মধ্য দিয়ে আত্মিক প্রশান্তির সমন্বয় ঘটে।

ঈদ উৎসব সময়ানুবর্তিতা ও নিয়মানুবর্তিতা শেখায়। চাঁদ দেখে রোজা শুরু করা ও শেষ করার মধ্য দিয়ে যেমন সময়ানুবর্তিতা শেখা যায়। এভাবে মুসলমানদের জীবনে ঈদুল ফিতর এক উজ্জ্বল ও সুন্দর শৃঙ্খলাবোধের সম্মিলন ঘটায়। কিন্তু এক্ষেত্রে আমরা কতটুকু সফল হয়েছি- তা বিশ্লেষণের দাবি রাখে।

পৃথিবীর প্রত্যেক জাতির বিশেষ আনন্দ অনুষ্ঠানের মতো ঈদুল ফিতরও মুসলিম জাতির বার্ষিক আনন্দ উৎসব। কিন্তু অন্যান্য অনুষ্ঠানের চেয়ে এর স্বাতন্ত্র্য ও বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। উৎসবের নামে অনাচার আর নৈতিকতা বিবর্জিত বল্গাহীন অনুষ্ঠান আড়ম্বরের কোনো অবকাশ নেই এখানে। বরং এ আনন্দ সংযম ও আনুগত্যের।

ইসলামের অসংখ্য শিক্ষার মতো ঈদুল ফিতরেরও বেশ কিছু অনুপম শিক্ষা রয়েছে। ইসলাম ত্যাগ-তিতিক্ষা, ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যরে যে শিক্ষা দেয়, সেই শিক্ষার বাস্তব অনুশীলন ঘটে ঈদের প্রভাতে। অসহায়, এতিম ও দরিদ্রের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার যে প্রশিক্ষণ এক মাস ধরে মুমিন বান্দা রোজা পালনের মাধ্যমে লাভ করেন, তার ফল প্রত্যক্ষ করার সময় ঈদুল ফিতর। এ দিন পারস্পরিক সম্পর্ক মজবুত ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার আবেদন আসে সব দিক থেকে। ঈদুল ফিতরের আনন্দ মানুষকে বিনয়ী, নম্র ও হৃদয়বান করে তোলে, ফলে ঈদের প্রভাত থেকেই তারা পরের সুখে সুখী হওয়ার তাগিদ অন্তরে অন্তরে অনুভব করে। ছোটদের প্রতি স্নেহমমতা আর বড়দের প্রতি শ্রদ্ধাভক্তির প্রাণপ্রবাহে আমাদের হৃদয় ভরে যায়।

গোটা মুসলিম জাতির জন্য ঈদ খুশির দিন; তবে ব্যক্তির জন্য দিনটি আত্মসমালোচনা ও আত্মবিশ্লেষণের। সবাই সেই আত্মবিশ্লেষণে জীবনের ইতিবাচক দিকটি খুঁজে নেবেন, ইতিবাচক পথে জীবন পরিচালনার শপথ নেবেন- এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সবাইকে ঈদ মোবারক, ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক আস সালাম।

লেখক:  খতিব, রহিম মেটাল জামে মসজিদ, তেজগাঁও