পাবনায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামী আটক

পাবনার সাঁথিয়ায় স্ত্রী হত্যার অভিযোগে রাকিবুল ইসলাম (২৫) নামের এক যুবকরে আটক করেছে পুলিশ।

ঈদের আগের রাতে স্ত্রীকে হত্যা করে নদীর ক্যানেলে কচুরিপানার মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিলেন রাকিবুল। শনিবার সকাল দশটার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত কানিজ ফাতেমা (২০) বেড়া পৌর সদরের শম্ভুপুর মহল্লার আব্দুল কাদেরের মেয়ে। আটক রাকিবুল ইসলাম সাঁথিয়া পৌর সদরের ফেছুয়ান মহল্লার চাঁদু শেখের ছেলে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, ৭/৮ মাস আগে রাকিবুলের সাথে বিয়ে হয় ফাতেমা খাতুনের।

বিয়ের পর থেকে তাদের মনোমালিন্য ও পারিবারিক কলহ চলছিল। গত ২৮ এপ্রিল স্ত্রী ফাতেমাকে তার বাবার বাড়িতে রেখে যান রাকিবুল।

ঈদের আগে নিয়ে যাবার কথা ছিল। এর মধ্যেই স্ত্রীকে হত্যার ছক কষতে থাকেন রাকিবুল। ঈদের আগের দিন ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যার পর বেড়ানোর কথা বলে মোবাইল ফোনে স্ত্রী ফাতেমাকে বাড়ির বাইরে বের হতে বলেন রাকিবুল। তবে তার বাইরে বের হওয়ার কথা তার পরিবারের কাউকে বলতেও নিষেধ করেন।

ফাতেমা বাইরে বের হলে তাকে মোটরসাইকেলে নিয়ে সাঁথিয়া উপজেলার করমজা ব্রিজের কাছে নিয়ে যান রাকিবুল। সেখানে নিরিবিলি জায়গা পেয়ে মোটরসাইকেল থামিয়ে স্ত্রীকে দাঁড় করিয়ে রেখে একটু দূরে সরে যান। কিছুক্ষণ পর পেছন থেকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন রাকিবুল। পরে রাস্তার পাশে ইছামতি নদীর ক্যানেলে কচুরিপানার মধ্যে ফাতেমার মরদেহ লুকিয়ে রেখে বাড়ি চলে যান তিনি।

যাবার আগে স্ত্রী ফাতেমার মোবাইল ফোন থেকে ‘আমাকে মাফ করো, অন্য একটি ছেলের সাথে আমার সম্পর্ক আছে, তাই চলে গেলাম’ এই কথা লিখে নিজের ফোনে ও ফাতেমার ভাইয়ের ফোনে মেসেজ পাঠান রাকিবুল।

মেয়ের খোঁজ না পেয়ে বাবা কাদের বেড়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ। প্রথমে স্বামী রাকিবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান।

তিনি পুলিশকে তার স্ত্রীর মেসেজের কথাও জানান। এরপরই সন্দেহ হয় পুলিশের। শুক্রবার রাতে স্বামী রাকিবুলকে আটক করে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করার একপর্যায়ে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি।

পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যমতে শনিবার সকালে নদীর ক্যানেল থেকে ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

হত্যার কারণ সম্পর্কে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, আটক রাকিবুলকে জিজ্ঞাসাবাদে যেটুকু মনে হয়েছে বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না। এ নিয়ে মনোমালিন্য ও সাংসারিক অস্থিরতা ছিল। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে চেয়েছিলেন রাকিবুল।

মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান বেড়া থানার ওসি অরবিন্দ সরকার।