বিধিনিষেধ মেনেই ঈদ উদযাপন

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সারা বিশ্ব নাকাল। এ পরিস্থিতিতে দেশে দেশে ঈদ উদযাপিত হয়েছে। মুসলিম উম্মাহর বড় দুই উৎসবের একটি হলো ঈদুল ফিতর। দেশেও চলছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ৫ এপ্রিল থেকেই চলছে বিধিনিষেধ। এ বিধিনিষেধের মধ্যেই ঈদের দিন গত শুক্রবার ঈদের নামাজ ও জুমায় করোনা পরিস্থিতি যেন দ্রুত ঠিক হয়ে যায় সেজন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে। আর ঘরে ঘরে মানুষ ঈদ পালন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদের আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দেশবাসীকে যে যেখানে আছেন সেখানেই ঈদ পালনের অনুরোধ জানান। এছাড়া ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মুসলিম উম্মাহ ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। গত শুক্রবার ঈদের নামাজ শেষে তিনি এ শুভেচ্ছাবার্তা দেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ঈদ মুসলমানদের জন্য সর্ববৃহৎ আনন্দ-উৎসব। ঈদ উপলক্ষে ধনী-দরিদ্র, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই আনন্দে মেতে ওঠে। এ বছর এমন একটা সময়ে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে যখন গোটা বিশ্ব করোনাভাইরাসের সংক্রমণে চরমভাবে বিপর্যস্ত। করোনার কারণে বাংলাদেশের জনগণের জীবন-জীবিকাও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

তিনি বলেন, ঈদুল ফিতর আমাদের আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযমের শিক্ষা দেয়। আমাদের চারপাশে অনেক অসহায় ও বিপন্ন মানুষ রয়েছে। তারা যেন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয় সে ব্যাপারে সবাইকে সাধ্যমতো চেষ্টা চালাতে হবে। তিনি সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং ব্যক্তিবর্গকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের ঈদ শুভেচ্ছা জানান এবং রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গজনবী রোডে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্রে (মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১) বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধাদের ফলমূল ও মিষ্টান্ন পাঠিয়েছেন।

ঈদের দিন শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকু, উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার এবং সহকারী প্রেস সচিব এবিএম সরওয়ার-ই-আলম সরকার প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এগুলো পৌঁছে দেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যরা এ সময় প্রতিটি রাষ্ট্রীয় দিবস এবং উৎসবে যেমন স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ঈদ এবং বাংলা নববর্ষের দিনে তাদের স্মরণ করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

বিধিনিষেধ মেনে ঈদের জামাত : কভিড-১৯ সংক্রমণ এড়াতে বিধিনিষেধের মধ্যেই রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে মসজিদে মসজিদে ঈদের নামাজে অংশ নিয়েছেন হাজারো মুসলমান। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে এবারের ঈদের প্রধান জামাত হয় সকাল ৭টায়। এতে ইমামতি করেন মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান।

নামাজের আগে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে জামাতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। নামাজ শেষে করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করা হয়। মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়। বায়তুল মোকাররমে সকাল ৭টায় প্রথম জামাতের পর সকাল ৮টা, ৯টা, ১০টা এবং ১০টা ৪৫ মিনিটে আরও চারটি জামাতের আয়োজন করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। বায়তুল মোকাররমের মসজিদের মাইক থেকে বারবার মাস্ক পরে মসজিদে প্রবেশের আহ্বান জানানো হয়। নিরাপত্তার জন্য এবার বায়তুল মোকাররম এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য উপস্থিত ছিলেন। করোনাভাইরাসের বিধিনিষেধের কারণে রাজধানীর পাড়া-মহল্লার সব মসজিদেই নিজেদের নির্ধারিত সময়ে ঈদ জামাতে অংশ নিয়েছেন মুসল্লিরা।

সরকারের বিধিনিষেধ থাকায় এবার খোলা জায়গায় ঈদের জামাত হয়নি। দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত হয় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায়। এবার সেখানেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি।