এক বছরে ক্ষুদ্রশিল্পে প্রণোদনার ৭৩ শতাংশ ঋণ বিতরণ

করোনা মহামারীর প্রভাব মোকাবিলায় গত বছর ৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুদ্রশিল্পের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের ঘোষণা দেন। ওই বছরের ১৩ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত নীতিমালা ঘোষণা করে। এরই মধ্যে একটি বছর পেরিয়ে গেলেও প্যাকেজটি পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ২২ এপ্রিল পর্যন্ত কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের (সিএমএসএমই) প্রণোদনা প্যাকেজের ৭২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছে ব্যাংকগুলো।

বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১৪ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। সিএমএসএমই খাতের ৯২ হাজার ২৬৯টি প্রতিষ্ঠান এই ঋণ পেয়েছে। এর মধ্যে নারী উদ্যোক্তা রয়েছেন ৫ হাজার ২১২ জন।

করোনা মহামারীতে ব্যবসা-বাণিজ্য স্তিমিত হয়ে পড়ায় সিএমএসএমই খাতের প্রতিষ্ঠানকে এ প্যাকেজের আওতায় মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে ব্যাংকগুলো।

প্রাপ্ত তথ্যে আরও দেখা যায়, গত ২২ এপ্রিল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ প্যাকেজের আওতায় ১৫ হাজার ৫৩৯ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত এই পরিমাণ ঋণ বিতরণের আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিএমএসএমই ঋণের বিতরণ বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে নিয়মিত তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ প্যাকেজের শতভাগ ঋণ বিতরণ সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।’

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) এ প্যাকেজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংক তাদের লক্ষ্যমাত্রার ১০৫ শতাংশ এবং রাকাব ১০০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রাইম ব্যাংক, দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক সিএমএসএমই খাতের এ প্যাকেজের ঋণ বিতরণের শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

আলোচিত সময় পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দিক থেকে পিছিয়ে ছিল পূবালী ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক। পূবালী ব্যাংক ৩৩ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ৪১ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছে।

টাকার অঙ্কের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি সিএমএসএমই খাতের প্রণোদনার ঋণ বিতরণ করেছে ইসলামী ব্যাংক। এ ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা। এরপরই রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। এ ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৪১২ কোটি টাকা। তৃতীয় অবস্থানে থাকা অগ্রণী ব্যাংক বিতরণ করেছে ৮৮৯ কোটি টাকা।

অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিএমএসএমই খাত আমাদের দেশের মূল চালিকাশক্তি। এ খাতকে টিকিয়ে রাখতে আমরা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে তৎপর ছিলাম। আশা করছি, দ্রুত সিএমএসএমই খাতের ঋণ ব্যবহার করে এ খাতের উদ্যোক্তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।’

এছাড়া সাউথইস্ট ব্যাংক সিএমএসএমই খাতের প্রণোদনার ঋণ বিতরণ করেছে প্রায় ৭০৫ কোটি টাকা। যা তাদের লক্ষ্যমাত্রার ৭১ শতাংশ। প্রিমিয়ার ব্যাংক ৫৫০ ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক বিতরণ করেছে ৫৪৯ কোটি টাকা। যমুনা ব্যাংক বিতরণ করেছে ৫০৯ কোটি টাকা। আইএফআইসি ব্যাংক বিতরণ করেছে ৪১১ কোটি টাকা।

প্রণোদনার বাইরেও সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তারা যাতে চাহিদামতো ঋণ পান সে লক্ষ্যেও কাজ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের আওতায় নারী উদ্যোক্তারা যাতে জামানতবিহীন ঋণ পেতে পারেন সে লক্ষ্যে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর পোর্টফোলিও লিমিট ন্যূনতম ৫ শতাংশ সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়।