যুক্তরাষ্ট্র ফের আটকে দিল নিন্দা প্রস্তাব

দ্বিতীয় সপ্তাহে পড়ল গাজায় ইসরায়েল-হামাস লড়াই। দিন যত গড়াচ্ছে হামলা-পাল্টাহামলার তীব্রতা আরও বাড়ছে। গেল সপ্তাহের সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই লড়াইয়ে ইতিমধ্যে প্রাণ হারিয়েছে ২০০ জনের বেশি। আহত হয়েছে অন্তত হাজার দেড়েক। এই অবস্থায় জাতিসংঘ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংস্থা ও দেশ দুই পক্ষকেই শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে। তবে হামাসও যেমন প্রতিদিন হাজার হাজার রকেট ছুড়ছে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে তেমনি ইসরায়েলি সেনারাও লাগাতার বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে গাজার মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায়। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স, এএফপি, আল-জাজিরা ও বিবিসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে গত রবিবার ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতার দিন। এদিন হামাস যেমন কয়েক হাজার রকেট ছুড়েছে তেমনি সারা দিন এবং রাতভর গাজায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মধ্যরাতের একটু পর ইসরায়েলের বীরশেবা ও আশকেলন শহরে গাজা থেকে রকেট হামলা চালানোর পর তাদের জঙ্গি বিমানগুলো ‘সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যে’ আঘাত হেনেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্তের কোনো পাশ থেকে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

গাজায় জ্বালানি সংকট দেখা দিচ্ছে আর এ কারণে ফিলিস্তিনি ছিটমহলটির হাসপাতাল ও অন্য স্থাপনাগুলো বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

গত রবিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে তৃতীয়বারের মতো ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের হামলার নিন্দা প্রস্তাব আনা হয়। তবে আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিবিসি জানাচ্ছে, গাজায় ইসরায়েলের জঙ্গি বিমান থেকে ফেলা বোমায় শিশুসহ বেসামরিক লোকজনের প্রাণহানির মধ্যে এক সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয়বার জরুরি বৈঠকে বসেছিল জাতিসংঘ। সেখানে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে অবিলম্বে অস্ত্রবিরতির আহ্বানসংবলিত একটি যৌথ প্রস্তাব তোলা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটি আটকে দেওয়ায় এবারের বৈঠকও নিষ্ফল হয় বলে আল-জাজিরা জানিয়েছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও দুই দফায় নিরাপত্তা পরিষদে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা এবং অস্ত্রবিরতির আহ্বানসংবলিত প্রস্তাব আটকে দেয় বলে খবর রয়েছে। এরপর রবিবারের ওই বৈঠক বসে।

১০ মে রাত থেকে গাজায় বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। এর মধ্যে গত শুক্রবার রাতে ট্যাংক ও কামান থেকে গোলা নিক্ষেপ করে তারা। ইসরায়েলি বোমায় ধ্বংস হচ্ছে গাজার নানা বহুতল ভবন। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে লাশ। এরই মধ্যে সেখানে প্রায় ২০০ মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৫৮ শিশু রয়েছে।

গাজায় এই হামলার পক্ষে যুক্তি হিসেবে হামাসের রকেট নিক্ষেপের কথা বলছে ইসরায়েল। অপরদিকে হামাস বলছে, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম থেকে জোরপূর্বক ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা এবং গত সপ্তাহে ইসরায়েলি বাহিনীর আল-আকসা মসজিদ চত্বরে অভিযান চালিয়ে সেখানে অবস্থানের প্রতিশোধ নিতে তারা রকেট ছুড়ছে।

নিরাপত্তা পরিষদ থেকে অস্ত্রবিরতির আহ্বানের জন্য নরওয়ে, চীন ও তিউনিসয়ার নেতৃত্বে চেষ্টা চলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতায় এখনো তা ফলপ্রসূ হয়নি।

নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য হলোÑ যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্য। এই দেশগুলোর প্রতিটির যেকোনো বিষয়ে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে তা আটকে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক দল ফাতাহর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সোমবার আল-জাজিরাকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানে তারা হতাশ। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ফোনে যে ইতিবাচক বার্তা পাওয়া গিয়েছিল, তার প্রতিফলন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ঘটছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছ থেকে হামলা বন্ধের জন্য ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগের কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি। উল্টো শুরু থেকেই ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের কথা বলে আসছেন তিনি।

সমালোচকদের পাশাপাশি বাইডেনের ডেমোক্র্যাট পার্টির অনেকেও তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি হামলাকে দায়মুক্তি দেওয়ার অভিযোগ করছেন।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে বলেন, লড়াই থামাতে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক চ্যানেলে ‘অক্লান্তভাবে’ কাজ করে যাচ্ছে।