ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি

তেলের স্থাপনা আঁকড়ে বাঁচলেন ৩৩ বাংলাদেশি

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একটি নৌকাডুবিতে অন্তত ৫৭ জন নিখোঁজ হয়েছেন। গত সোমবার তিউনিসিয়ার দক্ষিণ উপকূলের ওই নৌকাডুবির ঘটনায় এখনো উদ্ধার হওয়া ৩৩ জনের সবাই বাংলাদেশি বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মুখপাত্র ফ্লাভিও ডি জিয়াকোমো। এছাড়া একই দিন দেশটির জেব্রা আইল্যাল্ডের কাছে ‘প্রায় ডুবন্ত’ আরেকটি নৌকা থেকে বাংলাদেশ, মরক্কো ও সাব-সাহারা অঞ্চলের আর ১১৩ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়। 

গতকাল তিউনিসিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে জানায়, লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল নৌযানটি। তিউনিসিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ জিকরি বলেন, জীবিতরা দক্ষিণ উপকূলে একটি তেল স্থাপনা আঁকড়ে ধরেছিলেন। সেখান থেকেই তাদের উদ্ধার করা হয়। 

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জুয়ারার ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে জারজিস বন্দরে নিয়ে আসা হয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত রবিবার লিবিয়ার জুয়ারা বন্দর থেকে ৯০ জনের বেশি মানুষ নিয়ে যাত্রা করে নৌযানটি। সেটি ডুবে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে অতিরিক্ত মানুষ নিয়ে প্রায়ই এমন নৌযান উত্তর আফ্রিকার উপকূল থেকে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা করে। কোস্ট গার্ডকে ফাঁকি দিতে রাতের বেলায় এমনকি খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে সেগুলো ছাড়া হয়।

আইওএম মুখপাত্র ফ্লাভিও ডি জিয়াকোমো বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া সবাই বাংলাদেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখনো ৫০ জনের মতো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিরা কোন দেশের নাগরিক, সেটি এখনো জানা যায়নি।’

তবে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এখনো ৫৭ জনের নিখোঁজ থাকার তথ্য দেওয়া হয়েছে। ওইদিন বিকেলে জেব্রা আইল্যাল্ডের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অপর ১১৩ জনকে বাংলাদেশ, মরক্কো ও সাব সারাহা অঞ্চলের বলেও জানানো হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

আইওএমর তথ্য মতে গত বছর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ১ হাজার ২০০ অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা যান। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে। তাদের সবাই উত্তর আফ্রিকার উপকূল থেকে ইতালি ও মাল্টার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন।

সোমবার তিউনিসিয়ার নৌবাহিনী জানায়, ডুবে যেতে থাকা একটি নৌযান থেকে শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে তারা। উদ্ধার ব্যক্তিদের অধিকাংশই বাংলাদেশ, মরক্কো ও সাব সাহারা অঞ্চলের। তার আগে রবিবার রাতে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অনেক নৌকা থামিয়ে তীরে ফিরিয়ে আনে তিউনিসিয়ার উপকূলরক্ষা বাহিনী।

ফ্লাভিও ডি জিয়াকোমো জানান, দুই দিন আগেও সাগরে ৬৮০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে থামিয়ে দেওয়া হয়। লিবিয়ার কোস্ট গার্ড তাদের লিবিয়ায় ফিরিয়ে নিয়ে আসে। ২০২১ সালে এখন পর্যন্ত ৯ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীকে সাগরে আটকে দেওয়া হয় এবং তাদের লিবিয়ায় ফিরিয়ে আনা হয়।