দেশজুড়ে বিচ্ছিন্ন ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। হঠাৎ হঠাৎ বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবার বেড়ে যাচ্ছে গরমের তীব্রতা। গতকাল মঙ্গলবার নাগাদ দেশের প্রায় অর্ধেক এলাকাজুড়ে বয়ে যাচ্ছিল মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার তাপপ্রবাহ। যশোরে দুদিন ধরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছে ৩৯ ডিগ্রিতে। রাজধানীতেও গত পরশু নাগাদ বইছিল তাপপ্রবাহ। কিন্তু গতকাল তা কেটে গেছে। এদিন রাজধানীতে দুই ধাপে বৃষ্টি হয়েছে। আগারগাঁওয়ের আবহাওয়া দপ্তর এদিন ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে। এছাড়া এদিন সিলেট, ময়মনসিংহসহ দেশের আরও কিছু স্থানে বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী কয়েক দিন ধরেই বিচ্ছিন্ন ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে অব্যাহত থাকবে তাপপ্রবাহ। প্রায় সপ্তাহজুড়েই এমন অবস্থা চলতে পারে।
অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান খান গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগামী শুক্রবার পর্যন্ত আবহাওয়া মোটামুটি একই রকম থাকতে পারে। এ সময়ে রাজধানীতে থেমে থেমে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যত্রও বিচ্ছিন্নভাবে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে। যেখানে বৃষ্টি হবে, সেখানে তাপমাত্রা সাময়িকভাবে কিছু কমবে এবং পরে আবার বেড়ে যাবে। শনি বা রবিবারের দিকে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ তৈরি হতে পারে। তখন তাপমাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে। বিচ্ছিন্ন ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে তাপমাত্রাও প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তাপপ্রবাহ খুব শিগগির কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। আগামী সপ্তাহজুড়েই ভোগাতে পারে গরম। লঘুচাপ যদি ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়, তখন তাপমাত্রা কমে যেতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেশজুড়ে স্থাপিত পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দেশের অন্তত ১০টি স্থানে বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে সিলেটে। সেখানে ২৪ ঘণ্টায় ৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া কিশোরগঞ্জের নিকলিতে ৫০ মিলিমিটার, রাজধানীতে ৪৩ মিলিমিটার এবং নেত্রকোনায় ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বাকি এলাকাগুলোতে ২০ মিলিমিটারের কম বৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে বিচ্ছিন্ন ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে দেশের বেশকিছু এলাকায় চলছে তাপপ্রবাহ। তবে তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকা ও টাঙ্গাইল থেকে গতকাল তাপপ্রবাহ কেটে গেছে। এছাড়া ঢাকা বিভাগের ফরিদপুর, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জে গতকাল তাপপ্রবাহ অব্যাহত ছিল। ঢাকার বাইরে রাঙ্গামাটি, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী, রাজশাহী ও পাবনাসহ খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়েও গতকাল মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। এই এলাকাগুলোতে তাপপ্রবাহ আজও অব্যাহত থাকতে পারে বলে অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৩৯ মিলিমিটার। আগের দিনও একই স্থানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া গত দুদিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ময়মনসিংহে ২২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলসহ ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।