মোবাইলে গেম খেলা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে মোবাইলে গেম খেলা নিয়ে দু’পক্ষে সংঘর্ষ হয়েছে। কৈজুরি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য চুন্নু ও একই ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আব্দুল গফুর পক্ষে গত দু’দিনের হামলা সংঘর্ষে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ দু’পক্ষে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল। এর মধ্যে ছোট ছেলেদের মোবাইলে গেম খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে লাঠি, ফালা, হাসুয়া, রামদা, ঢাল, সর্কি, হাতুড়ি ও লোহার রড নিয়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয়পক্ষে ব্যাপক ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের ২২ জন আহত হয়।

আহতরা হলেন, গফুর মেম্বর পক্ষের আবু হানিফ (৫২), রেজাউল (২৫), আমিরুল (২৮), আব্দুর রউফ (৪০), আনজিরা বেগম (৫৫), কালা চাঁদ (২৪), আলিলম (২৭), মিজান (২২), কাদের (২৫), কবির (২০) এবং চুন্নু মেম্বর পক্ষের আব্দুল্লাহ প্রামানিক (৩৫), রইচ (৩৫), মোহাম্মদ জোয়ার্দ্দার (৫০), রাকিব (৩০), পলাশ (৩০), রাজু (১৭), আবু দাউদ (৩৫), ইন্জিল (৫৫), আনোয়ারা বেগম (৪৫), শরিফুল (৩০), মিলন (৩৫), উজ্জল (২৫), মামুন (২০)।

আহতদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

আরো জানা গেছে, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দু’পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তারা পুলিশকে লক্ষ করে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে শাহজাদপুর থানার এসআই আহাদ আলী(৩০) গুরুতর আহত হন। তাকে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে কৈজুরি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আব্দুল গফুর জানান, দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান মেম্বর চুন্নু ও তার লোকজন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। সোমবার বিকেলে ছোট ছেলেদের মোবাইলে গেম খেলাকে নিয়ে আমার লোকজনের গরু লুট করে। এ ছাড়া মুদি দোকান ব্যবসায়ী আমিরুলকে মারধর করে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এর জের ধরে মঙ্গলবার সকালে আমাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা  চালিয়ে বাড়িঘর ভাংচুর করে। বাধা দিলে উভয়পক্ষে সংঘর্ষ হয়।

অপরদিকে কৈজুরি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য চুন্নু জানান, গফুর মেম্বরের লোকজন মঙ্গলবার সকালে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে লাঠি-ফালা নিয়ে আমার লোকজনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। বাধা দিলে এ সংঘর্ষ হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, আমি ইউনিয়ন পরিষদের সকল কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় আমাকে বেকায়দায় ফেলতে কৈজুরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম গফুর মেম্বরের পক্ষ নিয়ে পরিকল্পতভাবে আমার লোকজনের ওপর হামলা করাচ্ছে। তার হস্তক্ষেপের কারণে আমাদের গ্রামসহ আশপাশের সবগুলো গ্রামে হামলা সংঘর্ষ লেগেই আছে। তিনি এই হামলা সংঘর্ষ জিইয়ে রেখে নিজের ফায়দা লুটছেন।

এ বিষয়ে কৈজুরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি কারো পক্ষে নাই। দু’পক্ষকে বার বার শান্ত করার চেষ্টা করেছি। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সেখানে পুলিশ পাঠিয়েছি।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ বলেন, এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সংঘাত এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।