হেফাজত নেতাদের সম্পদ অনুসন্ধানে দুদকের টিম

হেফাজতে ইসলামের আহ্বায়ক জুনায়েদ বাবুনগরী, বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকসহ অর্ধশত নেতার বিরুদ্ধে সংগঠনের তহবিল আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এজন্য গত সোমবার দুদক পরিচালক মো. আকতার হোসেন আজাদের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে। দলের অন্য সদস্যরা হলেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ নুরুল হুদা, সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ, মো. সাইদুজ্জামান ও উপ-সহকারী পরিচালক মো. সহিদুর রহমান।

এ বিষয়ে দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মোজাম্মেল হক খান বলেন,

‘হেফাজতের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উৎস থেকে কমিশনে অনেকগুলো অভিযোগ জমা পড়ে। এসব অভিযোগ ও আমাদের নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি কমিশন অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। ইতিমধ্যে একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। অনুসন্ধানের পর অভিযোগ প্রমাণিত হলে  সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থানেওয়া হবে।’

অনুসন্ধান দলের প্রধান আকতার হোসেন আজাদের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো বক্তব্য করতে রাজি হননি।

হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে কমিশনে জমা হওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, হেফাজতের শীর্ষস্থানীয় নেতারা সংগঠনের তহবিল, বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানা ও ইসলামী প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকা এবং ধর্মীয় কাজে আসা বৈদেশিক সহায়তা আত্মসাৎ করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুদকের গোয়েন্দারা যাচাই-বাছাইয়ে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অনুসন্ধানের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) হেফাজত নেতা জুনায়েদ বাবুনগরী, নূর হুসাইন কাসেমী, মামুনুল হকসহ ৫৪ নেতার ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে গরমিল পায়, যার একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন দুদকে পাঠানো হয়। অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এ প্রতিবেদন আমলে নিয়েছে কমিশন।

এ ছাড়া হেফাজত নেতা জুনায়েদ বাবুনগরী, মামুনুল হক, মুহাম্মদ মাহফুজুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম, নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করীম, মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, আল-হাইয়্যাতুল উলয়াও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সভাপতি মাহমুদুল হাসান প্রমুখের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে।

এর আগে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে হেফাজত নেতাদের দেওয়া তথ্যে তাদের সংগঠনে অর্থের জোগানদাতা হিসেবে ৩১৩ জনকে চিহ্নিত করে ডিবি। এছাড়া মামুনুল হকের ব্যাংক হিসাবে ৬ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পায় সংস্থাটি।

দুদকের কর্মকর্তারা জানান, হেফাজতের শীর্ষস্থানীয় নেতারা দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জন ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত অপরাধ করেছেনÑ এমন অভিযোগ সামনে রেখেই অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে হেফাজতে ইসলাম। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকাসহ চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজত বিক্ষোভ-প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ১৭ জন নিহত এবং সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় রাজধানীতে ১২টি মামলা হয়। এরই মধ্যে গত ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের একটি রিসোর্টে কথিত স্ত্রী ঝর্ণাসহ অবরুদ্ধ হন মামুনুল হক। পরে নানা নাটকীয়তা শেষে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন ঝর্ণা। এরপর গত ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া থেকে মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ছাড়াও হেফাজতের ১৬ জন কেন্দ্রীয় নেতাকে আটকের পর নতুন ও ২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরের সমাবেশ ঘিরে সহিংসতার পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।