থ্যালাসেমিয়া রক্তের একটি জটিল জেনেটিক রোগ। এই রোগে রক্তের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিমোগ্লোবিন খুব দ্রুত ভেঙে যায়। তাতে বাচ্চার শরীরে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় এবং বাচ্চাকে বারবার রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হয়। থ্যালাসেমিয়া রোগের প্রধান লক্ষণ কী কীÑ এ রোগের চিকিৎসা এবং প্রতিরোধব্যবস্থা জানাও প্রয়োজন।
লক্ষণ
জন্মের পর প্রথম ১ বছর পর্যন্ত বাচ্চার মধ্যে থ্যালাসেমিয়ার কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না।
১ বছর পর থ্যালাসেমিক বাচ্চাদের শারীরিক বৃদ্ধি হ্রাস পাওয়ার মাধ্যমে রোগের লক্ষণ প্রকাশিত হয়।
এসব বাচ্চার যেমন শারীরিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়, ঠিক তেমনি ঘন ঘন ইনফেকশনের আশঙ্কা থাকে।
সঙ্গে রক্তস্বল্পতা এবং জন্ডিসের সমস্যা থাকতে পারে।
পেট ফুলে যায়।
বাচ্চা দেখতে অন্য বাচ্চাদের থেকে একটু আলাদা হয়। তার কপাল সামনের দিকে বেরিয়ে আসে, চোয়ালের হাড় বেড়ে যায়, ওপরের পাটির দাঁত বেরিয়ে আসে।
বাচ্চার মৃদু উপসর্গ থাকলে এটিকে বলা হয় থ্যালাসেমিয়া ট্রেইট। এই বাচ্চাদের শারীরিক বৃদ্ধিজনিত কোনো সমস্যা অথবা অন্যান্য জটিল কোনো সমস্যা নাও থাকতে পারে। অল্পমাত্রায় রক্তস্বল্পতা থাকতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে শরীরে কোনো ইনফেকশন হলে বেড়ে যায়।
সাধারণত বাবা-মায়ের আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে হলে বাচ্চার থ্যালাসেমিয়া হওয়ার প্রবণতা অনেকাংশে বেড়ে যায়।
চিকিৎসা
যে বাচ্চারা তীব্র উপসর্গ নিয়ে প্রকাশ করে তাদের বারবার রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হয়।
বারবার রক্ত দেওয়ার জন্য শরীরে আয়রনের পরিমাণ বেড়ে যায়। তখন আয়রনকে ভাঙার জন্য আয়রন চিলেটর দিতে হয়।
অতিরিক্ত আয়রন শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন যকৃৎ, প্লীহা, অগ্ন্যাশয়ে জমে গিয়ে অঙ্গগুলোর কার্যক্ষমতা কমিয়ে ফেলে। বিশেষ করে অতিরিক্ত আয়রন জমে প্লীহা পবশী বড় হয়ে গেলে অপারেশন করে প্লীহা কেটে ফেলতে হয়।
স্টিম সেল, বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন এই রোগের স্থায়ী চিকিৎসা হিসেবে ধরা হয়।
প্রতিরোধ
থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধের জন্য জনগণের মধ্যে এই রোগ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং সচেতনতা তৈরি করার কোনো বিকল্প নেই।
দুজন থ্যালাসেমিয়া বাহকের মধ্যে বিয়ে হলে তাদের বাচ্চাদের থ্যালাসেমিয়া হওয়ার ২৫ ভাগ সম্ভাবনা থাকে। এজন্য বিয়ের আগে ছেলেমেয়ে উভয়ের রক্ত পরীক্ষা করে থ্যালাসেমিয়া বাহক নির্ণয়ের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে ফেলা সম্ভব।
এ ছাড়া স্বামী-স্ত্রী দুজনই থ্যালাসেমিয়া বাহক হলেও বাচ্চা থ্যালাসেমিক কি না, তা গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
পরিবারের একজন যদি থ্যালাসেমিয়ার বাহক হন, তবে বাকিদেরও রক্ত পরীক্ষা করানোর মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়ার বাহক নির্ণয় করার মাধ্যমে এ রোগের প্রতিরোধ করা সম্ভব।