মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন বেড়েছে ১০ শতাংশ

দেশে করোনা মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাবে গত মার্চ থেকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। ফলে ওই মাসের শেষদিক থেকে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কার্যক্রম সীমিত করে আনা হয়। ফলে আবারও তাৎক্ষণিক লেনদেনের প্রয়োজনে সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে মানুষ ঝুঁকে পড়ে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, গত মার্চ মাসে সংখ্যার দিক দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার লেনদেন বেড়েছে ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ। পরিমাণের দিক দিয়ে লেনদেন বেড়েছে ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ।

তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত মার্চে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার গ্রাহকরা ৩০ কোটি ৭২ লাখ বার লেনদেন করে। ওই মাসে সক্রিয় মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবধারী ছিল ৩ কোটি ৪৬ লাখ। সেই হিসাবে একজন সক্রিয় মোবাইল হিসাবধারী গত মার্চে গড়ে প্রায় নয়বার লেনদেন করেন। তবে গত মার্চ পর্যন্ত দেশের ১৫টি ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবার আওতায় খোলা নিবন্ধিত হিসাব ছিল ১০ কোটি ২৮ লাখ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, টানা তিন মাস কোনো মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে লেনদেন না করলে ওই হিসাব নিষ্ক্রিয় ধরা হয়। প্রাপ্ত তথ্যে আরও দেখা যায়, গত মার্চে ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় নগদ টাকা জমা করা (ক্যাশ ইন) বেড়েছে ১৪ শতাংশ। ক্যাশ আউট বেড়েছে ১০ শতাংশ।

আলোচিত সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে গ্যাস-বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ। গত মার্চে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ হয় ৯৪০ কোটি টাকা। বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটা বিল পরিশোধ হয় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার।

ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিপর্যায়ে টাকা পাঠানো বেড়েছে ৪ শতাংশ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতনভাতা বিতরণ বেড়েছে ১ শতাংশ। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রেমিট্যান্স বিতরণ বেড়েছে ৩ শতাংশ। গত মার্চে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার এজেন্ট বেড়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। ওই মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ১০ লাখ ৬৯ হাজারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, গত বছর মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তের পর সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় মোবাইল ব্যাংকিং সেবার ব্যাপক প্রসার ঘটে। বর্তমানে করোনা মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক ও লেনদেন বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।