আসছে জেমসের নতুন গান

বাংলা ব্যান্ড সংগীতের সবচেয়ে জ্বলজ্বলে তারকা নগরবাউল জেমস। ক্যারিয়ারের এত বছর পরও যখন স্টেজে ওঠেন ভক্তরা উন্মাদনায় অন্য ভুবনে হারিয়ে যায়। ভক্তদের ‘গুরু’ তিনি। তিনি সেই শিল্পীদের একজন, যিনি নির্দিষ্ট প্রজন্ম ছাপিয়ে ছড়িয়ে পড়েছেন নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের মধ্যে, সমান আহ্লাদে। বেশ ক’বছর তার নেই নতুন গান, কিন্তু তাতে কী? সমুদ্রের অফুরন্তর পানির ভান্ডারে ক’ফোঁটা নতুন বৃষ্টির পানি গড়িয়ে পড়ল তা যেমন কেউ হিসাব রাখে না, তেমনি জেমসের অজস্র জনপ্রিয় গানের ভিড়ে তার নতুন গানের অনুপস্থিতিকে বিশেষ কিছু মনে হয় না ভক্তদের কাছে। তবে জেমস-ভক্তদের জন্য সুখবর। যার জন্য ভক্তদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, এবার সেই অপেক্ষার অবসান হবে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বললেন, ‘এ বছর একটি নতুন গান করব। সেটি বছরের শেষের দিকে হলেও।’

এই করোনাকালীন সময়ে জেমস একেবারেই ঘরবন্দি দিন কাটাচ্ছেন। সময় কাটে কীভাবে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি গানের মানুষ। গানের চর্চা আমার জীবনের প্রথম অনুষঙ্গ। খাওয়া-দাওয়া, ঘুমের মতো গানের চর্চা আমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। কালজয়ী হওয়া সহজ কথা নয়। আমি কী পেয়েছি, আর হয়েছি এসব কখনো ভাবি না। আমি শুধু ভাবি, আমি আর কী পাব। মানুষের ভালোবাসা পেতে গানই তো আমার একমাত্র অনুষঙ্গ। তাই নিত্যনতুন নতুন কী করা যায় সেটি নিয়ে ভাবতে থাকি। নতুন গান করা হচ্ছে না অনেক দিন। কিন্তু যখন করব তখন নতুনত্বের ছোঁয়া নিয়েই হাজির হব।’

গানের বাইরে জেমসের সবচেয়ে ভালোলাগার কাজ ফটোগ্রাফি। স্টিল ছবি তুলতে তিনি খুব পছন্দ করেন। তার গানের গলা যেমন প্রখর, ছবি তোলার হাতও তেমন পাকা। এরই মধ্যে ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে তা জেনে গেছেন। জয়া আহসান, রাফিয়াত রশিদ মিথিলা, মারিয়া নূর, শ্রাবণ্য তৌহিদা, সৈয়দ রুমার মতো জনপ্রিয় তারকাদের তিনি উপস্থাপন করেছেন একেবারে নতুন আঙ্গিকে নিজের ক্যামেরার জাদুতে। আগে ক্যামেরা নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। এখন যেহেতু তার সুযোগ নেই, এজন্য ছবির স্টুডিওতেই বেশ কিছুটা সময় কাটে এই গানের কিংবদন্তির। ছবি তোলা, এডিটিং, কালার গ্রেডিং সব কাজ নিজ হাতে করতেই ভালোবাসেন। এই যে চেনা তারকাদের অচেনারূপে উপস্থাপন করেন? সেটির প্রক্রিয়াটি কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে আমাদের ফটোশ্যুটগুলো খুব একটা পূর্বপরিকল্পিত হয় না। আমার গানের ক্ষেত্রে যেমন সবকিছু ম্যানেজ করার জন্য আলাদা ব্যক্তি রয়েছেন, তেমনি ছবির ব্যাপারেও সহযোগী আছেন। তারাই এই ফটোশ্যুটগুলো আয়োজন করেন। এমনও হয়েছে কারও কারও সঙ্গে আমার স্টুডিওতেই পরিচয় হয়েছে। কী পোশাক, কী মেকআপ আমি কিছুই জানি না আগে থেকে। স্টুডিওতে যাওয়ার পর আর্টিস্টকে যেভাবে দেখি তৎক্ষণাৎ চিন্তা করে ফেলি ছবিগুলো কেমন হতে পারে। আমি শুনেছি অন্য তারকাদের ছবিগুলো দেখে আরও অনেক প্রথম সারির শোবিজ তারকা আমার ক্যামেরায় ছবি তুলতে চায়। তাদের প্রত্যেককে আমি স্বাগত জানাচ্ছি।’

অবসরে জেমস সিনেমা দেখেন। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরেই থাকেন বলা যায়। মাঝেমধ্যে প্রয়োজনীয় কিছু পোস্ট করেই বেরিয়ে যান। তাই সেখানে কী হচ্ছে সে ব্যাপারে খুব একটা অবগত নন তিনি। পাঠক বুঝতেই পারছেন, কী বিষয়ে কথা বলা হচ্ছে। সম্প্রতি কলকাতার জি বাংলা সারেগামাপা থেকে পরিচিতি পাওয়া কণ্ঠশিল্পী নোবেল এই ব্যান্ডতারকাকে নিয়ে অনেক অপমানসূচক কথা বলেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। আবার নিজেই সেসব পোস্ট মুছে ফেলে করজোড়ে ক্ষমাও চেয়েছেন জেমসের কাছে। শিল্পীকে জঘন্যভাবে অপমানের এক দিনের মাথায় তাকে বড় ভাইতুল্য বলে সম্বোধন করেছেন। এসব নিয়ে জেমস খুব একটা অবহিত নন। তারপরও এ নিয়ে তার কিছু বলার আছে কিনা জানতে চাইলে বললেন, ‘আমি চাই না কোনো ধরনের বিতর্কিত ইস্যুতে কথা বলে সেটিকে আরও বড় করতে। তাই এই বিষয়ে মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন বলে মনে করছি।’ 

তবে জেমস এটুকু বললেন, ‘আমি যেহেতু গানের মানুষ। বিশ^ সংগীতের খবর যেমন রাখি, আমার দেশে কী ধরনের গান হচ্ছে তাও জানার চেষ্টা করি। কেউ কেউ বেশ ভালোও করছেন। আমি চাই তারা আরও চর্চার মাধ্যমে নিজের দেশের মিউজিককে আরও উন্নত পরিসরে নিয়ে যাবে। নতুন প্রজন্মের প্রত্যেক শিল্পী, মিউজিশিয়ানের প্রতি আমার শুভকামনা সব সময়।’