সোহরাওয়ার্দীতে গাছ কাটা

হাইকোর্টে দুই মামলার শুনানি মুলতবি

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটা, অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধ ও মূল নকশা ঠিক রাখার আরজি জানিয়ে করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি চার সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেছে হাইকোর্ট। হাইকোর্ট বলেছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নিয়ে উচ্চ আদালতের পূর্বের দেওয়া রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী যেন সেখানে কার্যক্রম হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানিকালে এ মন্তব্য করে শুনানি মুলতবির আদেশ দেয়।

এদিকে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে উদ্যানের গাছ কেটে সেখানে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্থাপন শুরু করায় সরকারের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে করা আদালত অবমাননার আবেদনের ওপর শুনানি দুই সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেছে হাইকোর্ট। অ্যাটর্নি জেনারেলের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি মুলতবির এ আদেশ দেয়।

দুই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাহেরুল ইসলাম ও সমরেন্দ্রনাথ বিশ^াস। রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও সাঈদ আহমেদ কবীর। আদালত অবমাননার আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটা বন্ধ করতে, কর্তৃনকৃত বৃক্ষের জায়গায় তিন গুণ বৃক্ষ রোপণ এবং মূল নকশা অনুযায়ী উদ্যানের কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা চেয়ে গত ৯ মে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করা হয়। বেলা (বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি), এএলআরডি (অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফরমস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট), নিজেরা করি, ব্লাস্ট (বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট), বাপা (বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন), আসক (আইন ও সালিশ কেন্দ্র) এবং স্থপতি মোবাশ্বের হোসেনের পক্ষে এ আবেদনটি করা হয়। হাইকোর্টের রায় উপেক্ষা করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটা নিয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগসংক্রান্ত আলাদা আবেদনের ওপর গত ১১ মে শুনানি হয়। এ সময় উদ্যানে আপাতত (২০ মে পর্যন্ত) গাছ কাটা বন্ধ রাখতে অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে মৌখিক নির্দেশনা দেয় হাইকোর্টের এই বেঞ্চ।

গতকাল রিট আবেদন মামলার শুনানিকালে অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে এই বলে অবহিত করেন যে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন ও পরিবেশবিদদের সঙ্গে আলোচনা করে উদ্যানের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এ সময় হাইকোর্ট এ বিষয়ে সন্তোষজনক নিষ্পত্তির তাগিদ দিয়ে বলে, এ নিয়ে হাইকোর্টের পূর্বের রায় অনুসারে কাজ হবে। অন্যথায় যারা সংক্ষুব্ধ তারা যেকোনো সময় আদালতে আসতে পারবেন।