শনাক্ত হার বেড়ে এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ

দেশে গত এক সপ্তাহ ধরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ স্থির অবস্থায় রয়েছে। সপ্তাহের প্রথম ছয় দিন শনাক্ত হার ৭ শতাংশের কাছাকাছি থাকার পর গতকাল শুক্রবার তা বেড়ে ৮ শতাংশের ওপর উঠেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৮ দশমিক ২২ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে গত ১৪ মে ঈদের দিন ১০ দশমিক ৮২ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছিল। ঈদের দিন শনাক্ত হার হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পরদিন আবার তা ব্যাপক কমে গিয়ে ৭ শতাংশের নিচে নামে। এরপর টানা তিন দিন শনাক্ত হার ৭-এর নিচেই ছিল। তার পরের তিন দিন এ হার সামান্য বেড়ে গিয়ে ৭ শতাংশের ওপরে ছিল। কিন্তু গতকাল তা আরেকটু বেড়ে গিয়ে ৮ শতাংশের ওপরে উঠল।

শনাক্ত হার বাড়ায় গতকাল দেশে নমুনা পরীক্ষা আগের দিনের চেয়ে কম হলেও রোগী শনাক্ত হয়েছে বেশি। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৮ হাজার ২৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ হাজার ৫০৪ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। আগের দিন ১৯ হাজার ৪৩৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ হাজার ৪৫৭ রোগী শনাক্ত হয়েছিল। শনাক্ত বাড়লেও এদিন মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬ জন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছে, যা আগের দিনের চেয়ে ১০ জন কম। তবে এদিন ঢাকা ও চট্টগ্রামকে পেছনে ফেলে খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বেশি রোগীর মৃত্যু হয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এদিন মৃতদের ১০ জনই ছিলেন খুলনা বিভাগের বাসিন্দা।

গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর গতকাল ছিল ৪৩৯তম দিন। অধিদপ্তরের এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ৪৮২টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৯টি জিন-এক্সপার্ট, ৩১৪টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১২৯টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৮ হাজার ৩৯৯ জনের। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৯৯ জনের, যার মধ্যে ৪২১টি নমুনা ছিল বিদেশ গমনেচ্ছুদের। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ৫৭ লাখ ৯৩ হাজার ১৭৭টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৯৮ জন। মোট পরীক্ষার বিপরীতে গড়ে ১৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ লোকের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১২ হাজার ৩১০ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৫২৯ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছে ৭ লাখ ২৯ হাজার ৩৯ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫৬ ও সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৯ ও নারী ৭ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৯০৩ পুরুষ ও ৩ হাজার ৪০৭ নারী মৃত্যুবরণ করেছে। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭২ দশমিক ৩২ ও নারী ২৭ দশমিক ৬৮ ভাগ। এদিন সর্বোচ্চ ১০ জন মারা গেছে খুলনা বিভাগে। বাকিদের মধ্যে চট্টগ্রামে ৬, রাজশাহীতে ৪, ঢাকায় ৩ এবং সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহে ১ জন করে মারা গেছে। এ নিয়ে করোনায় এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৮৭ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ২ হাজার ৩২০, খুলনায় ৭৪৮, রাজশাহীতে ৬৪৯, রংপুরে ৪৪৭, সিলেটে ৪৩৫, বরিশালে ৩৭০ এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ২৫৪ জন মারা গেছে। বয়স অনুযায়ী সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১৪, ৫১-৬০ বছরের ৮, ৪১-৫০ বছরের ২, ৩১-৪০ বছরের ১ এবং ২১-৩০ বছরের ছিল ১ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৩৪ রোগীকে আইসোলেশনে ও ১ হাজার ২৫৭ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১৭ হাজার ৬৫৯ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছে ৪৩ হাজার ৯৩৫ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোয় ১১ হাজার ৯৮১টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ১ হাজার ৯৬৮টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এছাড়া ১ হাজার ১৬১টি আইসিইউর মধ্যে এদিন রোগী ভর্তি ছিল ৩৩৮টিতে।