করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলাসহ ৫টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১০ দিনের জন্য কঠোর ‘লকডাউন’ কার্যকর করা হয়েছে। জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এ লকডাউন চলবে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত।
গতকাল কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানান, হঠাৎ করে রোহিঙ্গাদের মধ্যে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় টেকনাফ উপজেলায় ‘কঠোরভাবে লকডাউন’ বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসক বলেন, ‘উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার পাঁচটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৩১ মে পর্যন্ত ‘কঠোর লকডাউন’ কার্যকর থাকবে। এ বিষয়ে উপজেলায় মাইকিং করা হচ্ছে।’
কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শামসুদ্দৌজা জানান, সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় টেকনাফের ২৪ নম্বর এবং উখিয়ার ২, ৩, ৪ ও ১৫ নম্বর ক্যাম্পে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় ক্যাম্পে অভ্যন্তরে সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। লোকজনকে ঘরের মধ্যে থাকতে বলা হয়েছে। এই সময়ে ক্যাম্পে নিয়মিত সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে ওষুধ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম চলমান থাকবে।
কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তোহা জানান, ২০ মে পর্যন্ত ৪১ হাজার ৪৭৭ জন রোহিঙ্গার নমুনা পরীক্ষা করে ৩৪টি ক্যাম্পে ৯১৩ জন রোহিঙ্গার দেহে করোনার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। করোনাভাইরাসে এই পর্যন্ত ১২ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। তিনি জানান, এতদিন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করোনা পরিস্থিতি ভালো থাকলেও চলতি মে মাসে অবনতি হয়। গত ১৪ থেকে ২০ মে পর্যন্ত এক সপ্তাহে ১৬৫ জন রোহিঙ্গার দেহে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে আশ্রয় নিয়েছিল চার লাখ রোহিঙ্গা। সব মিলিয়ে বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয় শিবিরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।