দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের মৃত্যু কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় রয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় গত ১০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এদিন ৩৮ জন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন। এর আগে সর্বশেষ গত ১২ মে এরচেয়ে বেশি ৪০ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। গত মার্চের শুরু থেকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর দৈনিক মৃত্যু বাড়তে বাড়তে এপ্রিলে এসে ১০০ ছাড়িয়ে যায়। এপ্রিলের মাঝামাঝিতে মোট পাঁচ দিন শতাধিক রোগীর মৃত্যু হয়। এর মধ্যে গত ১৯ এপ্রিল দেশে এ যাবৎ সর্বোচ্চ ১১২ জনের মৃত্যু হয়। গত ২৫ এপ্রিলের পর থেকে মৃত্যু ক্রমান্বয়ে কমেছে। কমতে কমতে ১৫ মে সর্বনিম্ন ২২ জনে নামলেও গত এক সপ্তাহ ধরে তা আবার বাড়তির দিকে রয়েছে।
মৃত্যু বাড়তির দিকে থাকলেও গত এক সপ্তাহে আগের সপ্তাহ থেকে প্রায় ৯ শতাংশ মৃত্যু কম হয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া বছরের ২০তম সপ্তাহে (১৬-২২ মে) দেশে মোট ২২৪ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তার আগের সপ্তাহে মারা গিয়েছিল ২৪৬ জন। মৃত্যু কম হলেও শেষ সপ্তাহে পরীক্ষা ও শনাক্ত কমেছে। শেষ সপ্তাহে আগের সপ্তাহের চেয়ে শনাক্ত ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ ও পরীক্ষা ১৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে শেষ সপ্তাহে বেশি পরিবর্তন হয়েছে সুস্থ হওয়ার ক্ষেত্রে। শেষ সপ্তাহে আগের সপ্তাহ থেকে সুস্থ কমেছে ৪২ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
এদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে নমুনা পরীক্ষা কমেছে। তাই রোগী শনাক্তও কমেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এদিন ১২ হাজারের কিছু বেশি পরীক্ষায় ১ হাজার ২৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিন শনাক্তের হার আরেকটু বেড়েছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা গত ৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে গত ১৪ মে ঈদের দিন এরচেয়ে বেশি হারে রোগী শনাক্ত হয়েছিল।
গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর গতকাল ছিল ৪৪০তম দিন। অধিদপ্তরের এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ৪৮২টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৯টি জিন-এক্সপার্ট, ৩১৪টি র্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১২৯টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১১ হাজার ৯২০ জনের। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয়েছে ১২ হাজার ২৩০ জনের, যার মধ্যে ৩৯২টি নমুনা ছিল বিদেশ গমনেচ্ছুদের। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ৫৮ লাখ ৫ হাজার ৪০৭টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৭২৬ জন। মোট পরীক্ষার বিপরীতে গড়ে ১৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ লোকের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১২ হাজার ৩৪৮ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৭৫৯ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছে ৭ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৮ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫৭ ও সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২৫ ও নারী ১৩ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৯২৮ পুরুষ ও ৩ হাজার ৪২০ নারী মৃত্যুবরণ করেছে। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭২ দশমিক ৩০ ও নারী ২৭ দশমিক ৭০ ভাগ। এদিন সর্বোচ্চ ১৬ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। বাকিদের মধ্যে চট্টগ্রামে ৭, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটে ৪ জন করে, রংপুরে ২ এবং বরিশালে ১ জন মারা গেছে। এ নিয়ে করোনায় এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭ হাজার ১০৩ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ২ হাজার ৩২৭, খুলনায় ৭৫২, রাজশাহীতে ৬৫৩, রংপুরে ৪৪৯, সিলেটে ৪৩৯, বরিশালে ৩৭১ এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ২৫৪ জন মারা গেছে। বয়স অনুযায়ী সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১৬, ৫১-৬০ বছরের ১৩, ৪১-৫০ বছরের ২, ৩১-৪০ বছরের ৩, ২১-৩০ বছরের ২ এবং ১১-২০ বছরের ছিল ২ জন। এদিন সবাই হাসপাতালে মারা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৮৩ রোগীকে আইসোলেশনে ও ১ হাজার ১৯৭ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১৭ হাজার ৭৯৯ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছে ৪৩ হাজার ৫৩৮ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোয় ১২ হাজার ২১টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ১ হাজার ৯৬৩টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এছাড়া ১ হাজার ১৫৬টি আইসিইউর মধ্যে এদিন রোগী ভর্তি ছিল ৩০৯টিতে।