চাঁপাইনবাবগঞ্জ, আনোয়ারায় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৬ জনের

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও গোমস্তাপুর উপজেলায় গতকাল সোমবার বিকেলে বজ্রপাতে তিন শিশুসহ চারজন মারা গেছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় গত রবিবার বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে দুই রাজমিস্ত্রির।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মৌদুদ আহমেদ খাঁ জানান, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সামান্য বৃষ্টির সময় সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়নের নামোহড়মা গ্রামের এনামুল হকের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৭) বাড়ির বাইরে থাকা মহিষ আনতে গিয়ে এবং সুন্দরপুর ইউনিয়নের সাবানিয়া গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে আল আমীন (১২) বাগানে আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

এদিকে গোমস্তাপুর থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস জানান, ঝড়-বৃষ্টির সময় বাগানে আম কুড়াতে যাওয়া রহনপুরের হুজরাপুরের বিপ্লব আলীর মেয়ে খুশি (১২) ও গোমস্তাপুরের লালকোপড়া গ্রামের নাজমুল ইসলামের মেয়ে সাদিয়া (১০) বজ্রপাতে আহত হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারা মারা যায়।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বজ্রপাতে দুই রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। গত রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের পশ্চিম বরৈয়া গ্রামের বারৈয়ার ঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের পশ্চিম বরৈয়া গ্রামের মো. ইলিয়াছ (৪৫) ও আবুল কাসেম (৪৩)।

স্থানীয়রা জানান, রবিবার সন্ধ্যায় পাশর্^বর্তী গহিরা গ্রামের বার আউলিয়া এলাকা থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বারৈয়ার ঘোনা এলাকায় বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়। রাত দেড়টার দিকে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। গতকাল সোমবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

মারা যাওয়া মো. ইলিয়াছের ছেলে সুমন বলেন, রবিবার সন্ধ্যায় বাবা বাড়ি ফেরার সময় রাস্তায় আমি বাবাকে দেখে বকাঝকার ভয়ে লুকিয়ে যাই। ওই সময় মেঘাচ্ছন্ন আকাশে প্রচ- বজ্রপাত হচ্ছিল। রাতে বাড়ি ফিরে দেখি বাবা ঘরে আসেননি। সঙ্গে সঙ্গে বাবাকে খুঁজতে বের হলে বাড়ির পশ্চিম পাশে বারৈয়া ঘোনার বিলে বাবাসহ দুজনের লাশ পড়ে থাকতে দেখি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আনোয়ারা থানার ওসি এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার বলেন, নিহতদের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।