রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের এক সদস্য। নিজের পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, গত শনিবার রাতে করা খালেদা জিয়ার তৃতীয়বারের সিটি স্ক্যান রিপোর্ট ভালো এসেছে। তবে প্রায় এক মাস ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন কবে নাগাদ বাসায় ফিরতে পারেন তা কিছুই জানাননি তিনি।
গত শনিবার মেডিকেল বোর্ডে থাকা এক চিকিৎসক জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা এখন অনেকটাই উন্নতির দিকে। তবে তা খুব ধীরে হচ্ছে।
আর গতকাল বিএনপি চেয়ারপারসনের পরিবারের এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তার ফুসফুসের পানি বের করার জন্য বুকের দুই পাশের দুই পাইপের মধ্যে গত বুধবার বাম পাশেরটা খুলে ফেলা হয়েছে। ফুসফুসে পানি জমা পুরোপুরিভাবে বন্ধ হলে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে অন্য পাইপ খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘করোনাপরবর্তী জটিলতায় খালেদা জিয়ার হার্ট ও কিডনি এফেক্ট হয়েছে। এ জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সরকার অনুমতি না দেওয়ায় হাসপাতালেই চিকিৎসা দিয়ে রিকোভার করার চেষ্টা চলছে।’
গত ১১ এপ্রিল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’য় ব্যক্তিগত চিকিৎসক টিমের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন খালেদা জিয়া। পরে ২৭ এপ্রিল তার সিটি স্ক্যান করাতে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সিটি স্ক্যান রিপোর্টে তার ফুসফুসে কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তির সিদ্ধান্ত দেন চিকিৎসকরা। এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা শুরু হয়। এরপর তার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে গত ৩ মে তাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। এরপর তার করোনা পরীক্ষা করানো হলে রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তবে করোনাপরবর্তী জটিলতায় এখন হার্ট ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন তিনি। সেই সঙ্গে আছে পুরনো রোগ আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিস।