চলে গেলেন বাংলা একাডেমির ডিজি হাবীবুল্লাহ সিরাজী

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। একাডেমির সচিব এএইচএম লোকমান দেশ রূপান্তরকে জানান, হাসপাতালের ভেন্টিলেশন সাপোর্টে (লাইফ সাপোর্ট) চিকিৎসা নিচ্ছিলেন হাবীবুল্লাহ সিরাজী।

কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এএইচএম লোকমান আরও জানান, হাবীবুল্লাহ সিরাজীর মরদেহ রাতে হিমাগারে রাখার পর সকালে ধানম-ির বাসায় নেওয়া হবে, সেখানে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলা একাডেমিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কয়টায় আনা হবে, সেটি সকালে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী এবং হাবীবুল্লাহ সিরাজীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে পারিবারিকভাবে আজিমপুর কবরস্থানে দাফনের ব্যাপারে ভাবা হয়েছে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসেও কার্ডিয়াক, হজম সমস্যাসহ ফ্রোজেন শোল্ডার নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন হাবীবুল্লাহ সিরাজী। ২৭ ফেব্রুয়ারি তার হার্টে রিং পরানো হয়। পরে ২ মার্চ বাসায় ফিরেছিলেন। অসুস্থতা নিয়েই বইমেলায় দায়িত্ব পালন করেন। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ফের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেন। পরে চলতি মাসের শুরুর দিকে ফের অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাবীবুল্লাহ সিরাজী জাতীয় কবিতা পরিষদে নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে চারবার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ৩১ ডিসেম্বর ১৯৪৮ ফরিদপুরের রসুলপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আবুল হোসেন সিরাজী ও মা জাহানারা বেগম। ফরিদপুর জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক, ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে প্রকৌশল-স্নাতক (১৯৭০) ডিগ্রি লাভ করেন।

কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, যশোর সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, বিষ্ণু দে পুরস্কার, রূপসী বাংলা পুরস্কার ও জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার পেয়েছেন।