কভিড-উত্তর ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির ভাবনা

কভিডের কারণে দেড় বছর টানা বন্ধ হয়ে আছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সব কাঠামো। করোনাকালে আমরা বুঝতে পেরেছি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংক্রমণ ঠেকানোর চিন্তা ছাড়া শিক্ষা-সংক্রান্ত অন্য কোনো দূরদর্শী সিদ্ধান্ত সরকারপক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি। আমরা মনে করি করোনার অভিশাপ এক দিন কাটবে নিশ্চয়ই। আবার স্বাভাবিক সময় চলে এলে আশা করব সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ঘুরে দাঁড়াবে। অপরাজনীতির বিষবাষ্প থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যাতে মুক্ত রাখা যায়, তেমন নীতি নির্ধারণ করবেন বিধায়করা।

সরকার এখন অনেক বেশি স্থিতিশীল। বিরোধী দল তাদের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। সরকারের সামনে তেমন কোনো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার অবস্থায় নেই। এসব কারণে সরকার অনেকটা নির্ভার। যদিও সরকার শুরু থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছিল কিন্তু এর বাস্তবায়ন আমরা দেখতে পারিনি। তারপরও আমরা যারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট তারা ভেবেছিলাম শিক্ষাঙ্গনকে কলুষমুক্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ কাজে এর চেয়ে আর অনুকূল অবস্থা কবে পাওয়া যাবে কে জানে! কিন্তু এই প্রত্যাশিত জায়গাটিতে কাক্সিক্ষত ভূমিকা রাখতে আমরা সরকারি উৎসাহ তেমন দেখতে পাইনি। আমাদের দলীয় সরকারগুলো বরাবরই নিজ দলীয় ছাত্রসংগঠনগুলোকে প্রশ্রয় দিয়েছে। ক্যাম্পাসে তরুণদের দলীয় লাঠিয়াল হিসেবে গণ্য করেছে। এই কারণে জাতীয় পার্টির ছাত্রসমাজ, বিএনপির ছাত্রদল আর আওয়ামী লীগের ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে সুস্থ ধারার ছাত্ররাজনীতির চর্চা করতে পারেনি। যার যার সরকারের সময় দলীয় প্রশ্রয়ে আসুরিক দাপট দেখিয়েছে। এ ধরনের রাজনৈতিক সংগঠন যে ছাত্রকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিতে পারে, ক্যাম্পাসের সাংস্কৃতিক চর্চায় ভূমিকা রাখতে পারে, এ কথা মানুষ ভুলতে বসেছে। মানুষ অভিজ্ঞতা দিয়ে বিশ্বাস করছে এসব দাপুটে দলীয় ছাত্ররা ছাত্রের গুণাবলি ত্যাগ করে চাঁদাবাজ আর সন্ত্রাসী হয়েছে। নিয়োগ-বাণিজ্য আর ভর্তি-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকছে বেশি। দাপটের সঙ্গে সতীর্থ শিক্ষার্থীদের প্রভু হতে পছন্দ করে এরা। ক্যাম্পাসবাসীর মধ্যে হতাশা থাকে এই দমবন্ধকর অবস্থা থেকে মুক্তি মিলবে কি না এই প্রশ্নে।

আওয়ামী লীগ সরকারের এই পর্বে অনেকেরই প্রত্যাশা ছিল এবার শুদ্ধি অভিযান করবে সরকার। ছাত্রলীগকে আপন ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনবে। আওয়ামী লীগপ্রধান সে আহ্বান জানান ঠিকই কিন্তু ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায় না। একটি প্রত্যাশার জায়গা তৈরি হয়েছিল ডাকসু নির্বাচন কেন্দ্র করে। সুস্থ ধারা তৈরির প্রত্যাশা ছিল। সরকারের হারানোর কিছু ছিল না। তারপরও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ক্যাম্পাস শিরোনামে আবার দাপুটে ছাত্রলীগের কথাই উঠে আসছে। ফর্মুলায় আটকে থেকে কেউ কেউ বলে বেড়ান, ভবিষ্যৎ রাজনীতির শূন্যতা পূরণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি অবশ্যই থাকা উচিত। সেই সঙ্গে সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার এবং স্বাধীনতা-পূর্ব উজ্জ্বল ছাত্ররাজনীতিকে উদাহরণ হিসেবে এনে দাঁড় করান, তাদের কী করে বোঝাই ‘ছাত্ররাজনীতি’ আর বর্তমান ধারার ‘দলীয় লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতি’ এক কথা নয়। যার যার দলীয় আদর্শ ধারণ করা বা তা বাস্তবায়নে দোষের কিছু নেই সত্য; সংকট তখনই যখন দলীয় সমর্থনে রাজনীতিচর্চার বদলে দলীয় লাঠিয়ালে পরিণত হয় তারুণ্য। এরা গণতন্ত্রের প্রকৃত অর্থ বুঝতে চায় না। মূল দলের নেতৃত্বের মতো এরাও পরমতসহিষ্ণুতাকে পরিত্যাজ্য ঘোষণা করে। মূল দল যেমন কপটতার আশ্রয় নিয়ে বলতে থাকে, ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়’। সেদিক থেকে দলীয় ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছাত্ররা কপটতা না করে প্রভুদের ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যক্তি বন্দনাই করে। তাই এরা সেøাগানের ক্রমবিকাশ ঘটিয়ে ক্যাম্পাসে নিজেদের পরিচয় দিয়ে আসছে এভাবে বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, জিয়ার সৈনিক, খালেদা জিয়ার সৈনিক, শেখ হাসিনার সৈনিক আর ‘আগামীর রাষ্ট্রনায়ক’ তারেক জিয়ার সৈনিক। এ কারণে এ ধারার রাজনীতিতে যুক্ত তারুণ্য সাধারণ মানুষের তো নয়ই, নিজ রাজনৈতিক দলের আদর্শেরও সৈনিক হতে পারে না। মূল দলের ইচ্ছা পূরণের জন্য ক্যাম্পাসে দখলদারিত্ব বজায় রাখাটা প্রধান কাজ হিসেবে মনে করে। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিতে যুক্ত থেকে তারুণ্যের আদর্শিক ও নৈতিক মনোভূমিকে অনুর্বর করে ফেলে।

যারা ভাবেন বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতিচর্চা করে এরা ভবিষ্যতের রাজনীতিক হবেন, গণতন্ত্র রক্ষা করবেন তাহলে আমি বিনয়ের সঙ্গে তাদের স্বাপ্নিক বলব। আমি পাঠকের কাছে একটি প্রশ্ন রাখছি, বিগত চার দশক বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এমন একজনও কি পাওয়া যাবে যারা অন্তত তাজউদ্দীন আহমদ, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বা তোফায়েল আহমদ হতে পেরেছেন? অবশ্য সামান্য ব্যতিক্রম বাদ দিলে এদের কেউ কেউ নিজ নিজ দল বা অঙ্গসংগঠনের কাণ্ডারি হয়েছেন, মন্ত্রী হয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে যে চর্চা করেছেন সেই অভিজ্ঞতায় দুর্নীতিবাজ হয়েছেন। এখন যদি আমূল সংস্কার ছাড়া সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকারের দোহাইয়ে প্রচলিত ধারার ছাত্ররাজনীতিকেই অনুমোদন করি তাহলে আকাশের কালো মেঘ আরও জমাট হবে। নষ্ট ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত না থেকে কি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ভবিষ্যৎ রাজনীতিক হওয়ার দীক্ষা নিতে পারবে না? তাহলে একবার চোখ ফেরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের দিকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা ধারার সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী ছাত্রছাত্রীরা কাজ করে যাচ্ছে। চর্চার সঙ্গে যুক্ত বলে তুলনামূলক বেশি রাজনৈতিক সচেতনতা থাকার কথা এদের। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থনও আছে অনেকের। কিন্তু সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো সাধারণত কোনো জাতীয় দলের লেজুড় সংগঠন নয়। তাই কোনো স্বার্থবাদিতা বা উন্মত্ত আচরণ খুব কমই এদের মধ্যে দেখা যায়। এরা চাঁদাবাজি করে না পকেটের পয়সা বাঁচিয়ে সংগঠন চালাতে চাঁদা দেয়। এরা অন্যদের বিরুদ্ধে কথা বলার অপরাধে দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত মত্ত সতীর্থদের হাতে মাঝেমধ্যেই লাঞ্ছিত হয়। সুতরাং দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির হাল ধরতে দুর্বৃত্ত রাজনীতির দীক্ষা নেওয়া অনিবার্য হতে পারে না।

যে প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে পুরো সিস্টেমটি দাঁড়িয়েছে, সেখানে দলীয় ছাত্ররাজনীতি সংশ্লিষ্টদের শাসন করার রিমোট কন্ট্রোল আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থাকে না। থাকে কেন্দ্রীয় নেতাদের হাতে। নষ্ট রাজনীতির কাঠামোতে এখন ভিসি থেকে শুরু করে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি হিসেবে যারা নিয়োজিত হন তাদেরও সাধারণত দলীয় পরিচিতি থাকে। তাদের ক্ষমতাপ্রাপ্তির পেছনে কখনো ছাত্রনেতাদেরও ভূমিকা থাকে। এ কারণে ইচ্ছে থাকলেও দলীয় ছাত্রদের শাসন করার ক্ষমতা থাকে না প্রশাসক-শিক্ষকদের। উল্টো তারাই মাঝেমধ্যে শ্রীমানদের দ্বারা শাসিত হন। এ ক্ষেত্রে এদের শক্তি জোগান কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগঠনের নেতারা। ইচ্ছে থাকলেও তারা এদের ঘাটাতে চান না সহজে।

২০০৩ সালের একটি ঘটনার কথা বলা যায়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সালাম-বরকত হলে কতিপয় ছাত্রদলের নেতার ক্যান্টিনে বাকি খাওয়া ও নানা অনাচারে অতিষ্ঠ হয়ে হল প্রশাসন শৃঙ্খলাবিধির আওতায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তখন বিএনপি সমর্থিত। তথাপি ভিসি থেকে শুরু করে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন সবাই এই ছাত্রদের আচরণে বিরক্ত ছিল। আমি প্রাধ্যক্ষ হিসেবে মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের মৌখিক অনুমোদন নিয়ে হল প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকদের সমর্থনে অভিযুক্ত তিন নেতাকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করি। যা ঘটার তাই ঘটতে লাগল। বহিষ্কারাদেশ উঠিয়ে নেওয়ার জন্য নানামুখী চাপ আসতে থাকে। আমরা হল প্রশাসনের সবাই আমাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকি। শেষ পর্যন্ত এক দিন রাত ১১টার দিকে হলে কর্মকর্তাদের জরুরি সভা চলাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা চড়াও হয়। আমাদের তালাবদ্ধ করে অবরুদ্ধ করে ফেলে। বিদ্যুৎ, টেলিফোনের লাইন কেটে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। আমরা কৃতজ্ঞ আমাদের সহকর্মীদের ওপর। সারা ক্যাম্পাস থেকে সবাই ছুটে আসেন। উপাচার্য মহোদয়ও আসেন। তাকে খুব অসহায় মনে হয়েছিল। মাঝরাতে আমরা মুক্তি পাই। এরপর থেকে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের সুর পাল্টে যেতে থাকে। চারদিক থেকে শাস্তিউঠিয়ে নেওয়ার চাপ আসতে থাকে। যেন শাস্তি দিয়ে অপরাধ করেছি আমরা। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারা ক্যাম্পাসে এসে তাদের ‘শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী ছাত্রনেতাদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় শিক্ষকদের কটাক্ষ করতে থাকেন। চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন উপাচার্য মহোদয়ের ওপর। শেষ পর্যন্ত তিনি ধরাশায়ী হতে বাধ্য হন।

বারবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে যুক্ত থাকায় যার যার মূল দলের অবস্থান অনুযায়ী ছাত্রলীগ আর ছাত্রদল ক্যাম্পাস দাবড়ে বেড়ায়। এসব সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার অধিকার নিয়ে, যেমন সময়মতো ক্লাস-পরীক্ষা হওয়া, লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরি, ক্লাসরুমে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা এসব প্রসঙ্গে কখনো সেøাগান তোলে না। তারা দানবীয় আচরণ করে যার যার মূল দলের ইস্যু বাস্তবায়নে। রাজনৈতিক অভিভাবকদের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের অসহায় আত্মসমর্পণে এদের অনেকে চাঁদাবাজিতে যুক্ত থেকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চোর ও ডাকাতে পরিণত হতে থাকে। অন্যদিকে, বাম দলগুলোর বর্তমান ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের আচরণ দেখলে মনে হয় ষাটের দশকের যুক্তিবাদী ও আদর্শিক ইতিহাস তাদের অচেনা। বাস্তব অবস্থা যা-ই হোক না কেন, তারা ফর্মুলায় আটকে থেকে জোর করে হলেও ইস্যু তৈরি করে মাঠ গরমের মধ্য দিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জাহির করতেই ব্যস্ত থাকে বেশি। একই আবর্তে থাকায় জাতীয় পর্যায়ের বাম রাজনৈতিক দলগুলোর মতো এদেরও তাই কোনো শ্রীবৃদ্ধি নেই।

আশির দশকের দ্বিতীয় পর্ব থেকেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির প্রকাশ্য অবস্থানে দাঁড়াতে পারেনি। সময়ের প্রয়োজনে দলমত-নির্বিশেষে সব ছাত্রছাত্রী ঐক্যবদ্ধভাবে মৌলবাদী দল হিসেবে ছাত্রশিবিরকে বিতাড়িত করেছিল ক্যাম্পাস থেকে। এরপর বহুবার শিবির অবস্থান গ্রহণ করতে চেয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধে তারা দাঁড়াতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে দলীয় সংগঠনের সংস্পর্শ বর্জিত সাধারণ ছাত্রছাত্রীরাই সক্রিয় ছিল বেশি। সুতরাং সহজেই অনুমেয়, দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির হাল ধরার জন্য ক্যাম্পাসে নষ্ট রাজনীতির দলীয় কর্মী হয়ে রাজনীতির ট্রেনিং নেওয়ার দরকার পড়ে না। আমরা বিশ্বাস করি ক্যাম্পাস রাজনীতির এই অসুস্থতা শুধু বর্তমান নয়, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অন্ধকার আবর্ত তৈরি করে রাখবে। ভুললে চলবে না শুধু ছাত্র নয়, দলীয় লেজুড় রাজনীতিতে বাধা পড়ে গেছে ক্যাম্পাসের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেক অংশই। একই ধরনের আদর্শহীনতায় ভুগে বলে এরা ঐক্যবদ্ধভাবেই যেন একটি সুবিধাবাদের রামরাজত্ব কায়েম করতে চাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় যদি হয় জাতির মনন ও মেধা বিকাশের কেন্দ্র, তবে একে অন্ধকার আবর্ত থেকে বের করে আনতে হবে। করোনাকালের এই অবকাশে নতুনভাবে চিন্তা করার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে আমরা মনে করি। জ্ঞানচর্চার সচেতন ভূমি রাজনীতিবিচ্ছিন্ন হবে কেন! তবে সে রাজনীতির বিকাশ ঘটবে কোনো লেজুড়বৃত্তির মধ্য দিয়ে নয় স্বাধীন পরিবেশে মুক্ত আর নির্লোভ চিন্তার মধ্য দিয়ে। শিক্ষাঙ্গনগুলোতে এমন পরিবেশ যদি আমরা ফিরিয়ে দিতে পারি, তবে এই মাটি থেকেই ভবিষ্যৎ রাজনীতিবিদ স্বয়ংক্রিয়ভাবেই জন্ম নিতে থাকবে।

লেখক অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

shahnawaz7b@gmail.com