সূর্যরশ্মি দিয়ে আঁকা মাইকেলের চিত্রকর্ম

চিত্রশিল্পীরা ছবি আঁকেন রং-তুলি দিয়ে। এদিক থেকে ব্যতিক্রম মাইকেল পাপাদাকিস। তার ছবি আঁকার মাধ্যম সূর্যরশ্মি। গড়ে ৩০ ঘণ্টা সময় নিয়ে একেকটি ছবি আঁকেন তিনি। বিশ্বজুড়ে তার প্রতিভার কথা জানেন বহু মানুষ। মাইকেলের ভিন্নধর্মী ছবি আঁকার পথযাত্রা নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

সূর্যরশ্মি দিয়ে ছবি

মনের কথা খুলে বলার জন্য চিত্রকর্ম গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। আর এই চিত্রকর্ম সাধারণত পেন্সিল, রং, তুলি, কলমের সাহায্যে করা হয়। মাইকেল পাপাদাকিসও ছবি আঁকেন। তবে সেটি গতানুগতিক রং-তুলিতে নয়, আতশ কাঁচ ও সূর্যরশ্মির সাহায্যে। ভিন্ন মাধ্যমে ছবি আঁকার জন্য ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি বেশ খ্যাতি পেয়েছেন। কীভাবে এই ভিন্ন ধারায় ছবি আঁকাতে আগ্রহী হলেন মাইকেল?

ছবি আঁকার প্রতি মাইকেলের আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই। সময় পেলেই রং-তুলি নিয়ে বসে পড়তেন। সঙ্গে আগ্রহ ছিল মূর্তি বানানোরও। কলেজ শেষ করে একবার ছবি নিয়ে বের হলেন। তখন ২০১২ সাল। ইচ্ছে ছিল নিজের কিছু করার। মাইকেল বলেন, ‘কলেজ শেষ করার পর আমি নিজে নিজে কিছু করার সিদ্ধান্ত নিই। আমার মনে আছে, সে সময় দক্ষিণ কোরিয়ায় ফেরার জন্য আমার কাছে কোনো রিটার্ন টিকিট ছিল না। চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে আমি একরকম আইসোলেটেড অবস্থায় ছিলাম। সেখানে আমার একজন বন্ধু ছিল। ওর টেবিলে একদিন আমি একটি ম্যাগনিফায়িং গ্লাস দেখলাম। অবাক হয়ে খেয়াল করলাম জানালা দিয়ে আসা সূর্যের আলোতে সেটি চকচক করছে। ভাবলাম এই সূর্যের আলো দিয়ে কোনো ছবি অঁাঁকা যায় কি না। যেই ভাবা সেই কাজ। ছবি আঁকার যত সরঞ্জাম ছিল সব সরিয়ে ফেললাম রুম থেকে। ম্যাগনিফায়িং গ্লাস দিয়ে ছবি আঁকার চেষ্টা শুরু করলাম। তখন থেকে এই গ্লাস আমার সঙ্গে আছে। এর পর থেকেই আমি যখন যে দেশে যেতাম সেখানে এই ধরনের চিত্রকর্মের কাজ করা শুরু করি।

আমার এক হাতে থাকত ম্যাগনিফায়িং গ্লাস আর অন্য হাতে থাকত কাঠের একটি টুকরো। পামির মালভূমি পেরিয়ে ১৪ মাস আমি বিভিন্ন এলাকায় সূর্যরশ্মি দিয়ে স্থানীয়দের ছবি এঁকেছি। মূলত এর পর থেকেই সূর্যকে আমি আমার গাইড ভাবা শুরু করেছি। প্রচণ্ড রোদে যেখানে রাস্তায় হাঁটাই কঠিন, সেখানে আমি ছবি আঁকতাম। কষ্ট কিছুটা হয়, কিন্তু কাজ শেষে ভালো লাগাটাই আসল। প্রাচীন বাণিজ্যিক সড়ক সিল্ক রোডেও আমি ছবির কাজ করেছি। সেখানেই আমি সবচেয়ে কড়া রোদের সম্মুখীন হয়েছিলাম। এরপর ছিল মঙ্গোলিয়া, চীন, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, আফগানিস্তান, তুরস্ক ও গ্রিসের রোদ। আমেরিকায় ফিরে আমি গতানুগতিক ম্যাগনিফায়িং গ্লাসের ব্যবহার বন্ধ করে দিই। এরপর কিনেছিলাম ফ্রেসনেল লেন্স ও সোলার কালেক্টর (সোলার রেডিয়েশন নিয়ে কাজ করা ডিভাইস)।’

হেলিওগ্রাফি

২০১৩ সালে আমেরিকায় ফিরে আবারও কলোরাডোতে চলে যান মাইকেল। সেখানে শুরু করেন সূর্যরশ্মি নিয়ে নানারকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা। কাজ করতে গিয়ে তিনি খেয়াল করেন, প্রতিবিম্বিত আর প্রতিফলিত সূর্যরশ্মি একে অপরের থেকে আলাদা। দুটোর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দুই রকম। এসব পরীক্ষার পর তিনি বুঝতে পারেন, একই উৎস থেকে এলেও সূর্যালোকের একাধিক ধরন হতে পারে। ‘এদের বৈপরীত্যটা ছিল পানি-বরফ, পজিটিভ-নেগেটিভের মতো। সূর্যরশ্মির ধরন দুই রকম হলেও একে অন্যের সমন্বয়ে কাজও করা যায় সুন্দরভাবে। দিনের পর দিন নানাভাবে সূর্যরশ্মি নিয়ে আমার গবেষণা চলতে লাগল। কখনো কাজ ভালো হয়, কখনো হয় না। যখন হয় না, তখন খুঁজতে লাগলাম ঠিক কোন কোন জায়গায় আমার ভুল হচ্ছে। অনেকভাবে কাজ করতে গিয়ে বুঝলাম উৎস একই জায়গার হলেও, সূর্যরশ্মিরও বিভিন্ন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আছে। এই পদ্ধতির নাম হেলিওগ্রাফি। ১৮২২ সালে এই পদ্ধতি ছবি তোলার সময় ব্যবহার করা হতো।’ মাইকেল আরও বলেন, ‘সূর্যরশ্মি দিয়ে কাজ করার এই পদ্ধতি অনেক প্রাচীন। আর্কিমিডিস সূর্যরশ্মি ব্যবহার করে অস্ত্র বানাতেন। আমরা এখন এই পদ্ধতি ব্যবহার করে আরও শান্তিপূর্ণ আর সুন্দর জিনিস বানাচ্ছি।’

সরঞ্জাম ও সাবধানতা

ছবি আঁকার জন্য মাইকেল ব্যবহার করেন কাচ ও লেন্স। এগুলোর মাধ্যমে শক্তিশালী সূর্যরশ্মি দিয়ে ছবি আঁকা হয়। কাঠের ওপর ম্যাগনিফায়িং গ্লাসের সাহায্যে সূর্যরশ্মি প্রতিফলিত ও প্রতিবিম্বিত করা হয়। ব্রাশের বদলে ছবি আঁকার জন্য মাইকেলের কাছে রয়েছে ডজনখানেক ম্যাগনিফায়িং গ্লাস। কাঠ থেকে একটু দূরে গ্লাস ধরেন যাতে সূর্যের রশ্মি সরাসরি পড়ে। এই কাঠই হয়ে ওঠে তার ক্যানভাস। তিনি যখন সূর্যরশ্মি কাঠের ওপর ফেলেন, তখন কাঠে প্যাটার্ন অনুযায়ী পুড়তে শুরু করে।

ছবি আঁকার সময় নিরাপত্তার বিষয়টিকে তিনি খুব গুরুত্ব দেন। তিনি ওয়েল্ডিং (ঢালাই কাজে ব্যবহার করা চশমা) গ্লাস ব্যবহার করেন কারণ সূর্যরশ্মি চোখের ক্ষতি করতে পারে। সব সময় হাতের কাছে তিনি এক বোতল পানি রাখেন যেন কোথাও পুড়ে গেলে দ্রুত পানি স্প্রে করতে পারেন। যেসব জায়গায় আগুন লাগার সম্ভাবনা থাকে, এমন স্থানে বা তার আশপাশে কখনো তিনি কাজ করেন না।

সরাসরি যারা মাইকেলের কাজ দেখেন তারা প্রথমে বিশ্বাস করতে চান না কাজটি সূর্যরশ্মি দিয়েই করা হচ্ছে। তারা বারবার সূর্যের দিকে তাকান। মাইকেল বলেন, ‘আমি যখন বড় পরিসরে কাজ করি, আশপাশে অনেক মানুষ থাকে, তখন তারা অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে আমার কাজ দেখতে থাকে। তারা বিশ্বাস করতে পারে না যে সূর্যের আলো দিয়েও ছবি আঁকা যায়। তারা একবার আমার ছবির দিকে, একবার সূর্যের দিকে তাকান। তখন তাদের জোর করে সূর্যরশ্মির দিকে তাকানো থামাতে হয়। নইলে তাদের চোখের ক্ষতি হতে পারে।’

কেমন ছবি আঁকতে ভালোবাসেন

যে কোনো ছবি আঁকাতেই বেশ স্বচ্ছন্দ মাইকেল। তবে রোমান্টিক, পারিবারিক আর প্রতিদিনের জীবনের দৃশ্য আঁকতেই তিনি বেশি ভালোবাসেন। এসব ছবিতে জীবনের বাস্তবতা থাকে বলেই এসব বিষয় তাকে বেশি টানে। এছাড়া প্রাকৃতিক দৃশ্য, কোনো জন্তুর ছবি, প্রতিষ্ঠানের লোগো সবকিছুর কাজই তিনি করেন। ছবির মাপ, পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনাসহ প্রতিটি কাজ করতে গড়ে তার ৩০ ঘণ্টা সময় লাগে। যদি বাইরে সূর্যের আলো না থাকে তখন তিনি কাজ করতে পারেন না। সৌভাগ্যবশত, নিজ শহর কলোরাডোর গোল্ডেনে বছরের ৩০০ দিনই সূর্যের প্রচণ্ড তাপ থাকে। যার কারণে ছবির কাজ করতে তার অসুবিধা হয়নি। প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি নিয়মিত তাই অভ্যাস চালিয়ে গেছেন। ছবির কাজ করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন মানুষকে মাইকেল আদর্শ মেনেছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মার্টিন লুথার কিং, জন লেনন, মাইকেল জ্যাকসন, ববি কেনেডি, নেলসন ম্যান্ডেলা, নিকোলা টেসলা, আর্কিমিডিস। ‘আমার শিল্পের উৎসাহ আমি পাই আশা ও ধর্ম থেকে’। মাইকেল মূলত একজন চলচ্চিত্র পরিচালক। এই কাজ শুরুর পর থেকে তিনি বুঝতে পারেন এটা আসলে পারফরমেন্স আর্টই। মানুষের শুধু মনোযোগ দিয়ে এটি দেখতে হবে, বুঝতে হবে আর সত্যিকারের তারিফ করতে হবে।

ছবি আঁকার ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি বিষয় ধৈর্য। ধৈর্য না থাকলে মানসিক চাপও খুব দ্রুত জেঁকে বসে। নিজের কমফোর্ট জোন থেকে বের হয়ে এসে তিনি যখন সূর্যের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেন, সেটিও বেশ ধৈর্যের একটি কাজ ছিল। মাইকেল বিশ্বাস করেন, সূর্যরশ্মি দিয়ে প্রাচীন সময়ের আঁকা ছবি সত্যিকারের শিল্প ও প্রকৃতির অংশ। হেলিওগ্রাফি প্রাচীন সময়ের ছবি আঁকার একটি শিল্প মাধ্যম বলেই এটিতে তার আগ্রহ বেশি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা

আর্টের যত কিছু মাইকেল জানতেন তার সব এক সময় ভিডিও করে অনলাইনে শেয়ার করা শুরু করেন। ২০১৭/১৮ সালের দিকে তার কাজ বিশ্বজুড়ে প্রচুর ভাইরাল হয়। বিশ্বের কাছে নিজের কাজ তুলে ধরার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনেক বড় সাহায্যকারী বলে মানেন মাইকেল। ‘আমাকে শুধু এই মাধ্যম ব্যবসায়িক কাজ এনে দিচ্ছে তা নয়, ক্রাফট শিখতে চান এমন হাজারো মানুষের সঙ্গে আমাকে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছে। আমি মূলত ফেইসবুক ও ইন্সটাগ্রাম বেশি ব্যবহার করি। এই দুই প্লাটফর্মে আমি সবচেয়ে বেশি সাড়া পেয়েছি। ইদানীং ভিডিও বানানোর কারণে ইউটিউবও আমার কাজকে পরিচিত করে তুলেছে।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন পর্যন্ত মাইকেলের ভিডিও দেখেছেন প্রায় ৫০ মিলিয়ন মানুষ। এ সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। তার কাজের ভিন্নতার জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্নভাবে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন। ২০১৫ সাল থেকে মাইকেল তার ফ্রি সময়কে কাজে লাগিয়েছেন হেলিওগ্রাফি স্টুডিও করার জন্য। তিনি চান ভিন্ন ধারার এই শিল্প মাধ্যমও কারও না কারও আয়ের উৎস হয়ে উঠুক।

হেলিওগ্রাফির শিক্ষক

২০১৬ সালে তিনি বিশ্ববাসীর সঙ্গে নিজের কাজ শেয়ার করা শুরু করেন। নিয়মিত লাইভ ইভেন্ট চালু করেন। যুক্ত হন বড় বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে। ব্র্যান্ডগুলো গতানুগতিক কাজের ধারা থেকে বের হয়ে নতুন এই পদ্ধতির সাহায্যে নিজেদের কণ্ঠকে আরও জোরেশোরে তুলে ধরে। অনেক গ্রাহকের জন্য ইতিমধ্যে কাজ করেছেন মাইকেল। তার প্রতিভা-নাম ছড়িয়েছে আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায়। তার কয়েকজন গ্রাহকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে গো প্রো, দ্য ব্যালভেনি, আর জে রেনল্ড অ্যান্ড রিপলে’স বিলিভ ইট অর নট।

এক বছর পর, তিনি তার এর আর্টফর্মের শিক্ষা দেওয়া শুরু করেন। যারা শিখতে চান তারা যোগাযোগ শুরু করেন মাইকেলের সঙ্গে। তিনি অবাক হয়ে দেখলেন বড়দের তুলনায় ছোটদের মধ্যে শেখার আগ্রহ বেশি। তিনি বুঝলেন যেহেতু এই পদ্ধতিতে ছবি আঁকা শেখানোর মতো বিশ্বে খুব বেশি মানুষ নেই, কাজেই তার দায়িত্ব পরের প্রজন্মের জন্য রাস্তা তৈরি করা। তিনি যতগুলো পদ্ধতি জানতেন ও যতটুকু তার জ্ঞান ছিল, তাই দিয়েই তিনি শেখানো শুরু করেন।

‘আমরা যদি শিশুদের অল্প বয়সেই সূর্যের সত্যিকার শক্তির ক্ষমতা সম্পর্কে জানাই, তাহলে তারা সেই বয়সেই দক্ষ হয়ে উঠবে। তাদের ভেতর হতাশা কম জন্ম নেবে। আমি বিশ্বাস করি যে মানুষগুলো হতাশার অন্ধকারে ডুবে আছে, তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হেলিওগ্রাফি খুব ভালো কাজ করে। শুধু কোথায় কোথায় দরকার সেখানে এই সূর্যের আলোকে জ্বলতে দিতে হবে।’

মিউজিয়ামের স্মৃতি

সানফ্রান্সিসকোর দা ডি ইয়ং মিউজিয়াম এবং ফ্রান্সের ল্যুভর মিউজিয়াম মাইকেলের সবচেয়ে বেশি প্রিয়। এত বছর ধরে নিজের কাজের অভিজ্ঞতায় এই দুই জায়গা তাকে ভীষণ নস্টালজিক করে। ২০০৭ সালে সানফ্রান্সিসকোর এই মিউজিয়ামে মাইকেলের একটি ছবি প্রদর্শিত হয়েছিল। তার জন্য হয়তো এখানকার প্রতি তার টান অনেক বেশি।

শেকড়ের টান

মাইকেল দুইবার গ্রিসে গিয়েছেন। প্রথমবার গিয়েছেন ২০০২ সালে। সে সময় ক্রিটে গিয়ে বাবার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। পরেরবার গিয়েছিলেন ২০১৩ সালে। তখন কিওসে ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিন মাস থেকে মায়ের শেকড় খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন। ‘মা সব সময় নানাকে নিয়ে গল্প করত। মা যখন কিশোরী, তখনই তিনি আমেরিকায় চলে যান।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

মাইকেলের জন্ম ক্যালিফোর্নিয়াতে। ৩০ বছর বয়সী এই চলচ্চিত্র পরিচালক বাস করছেন কলোরাডোতে। চাইলেই কেউ মনমতো কাজ করার সুযোগ পায় না। সেদিক থেকে মাইকেল নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। ‘আমি সব সময় একজন পর্যটক আর চিত্রশিল্পী একসঙ্গে হতে চেয়েছি। কিন্তু ব্যাগের ভেতর ছবি আঁকার অনেক জিনিস থাকবে এটিও আবার ভালো লাগত না। এদিক থেকে এই হেলিওগ্রাফি মাধ্যমটা আমার জন্য সবচেয়ে সুবিধার।’

ভবিষ্যৎ কাজের পরিকল্পনা নিয়ে মাইকেল বলেন, ‘কভিড-১৯ এর কারণে আমি খুব বেশি কাজ করতে পারিনি। আমি আমার প্ল্যাটফর্ম দিয়ে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলো তুলে ধরতে চাই। আমি বিশ্বাস করি আর্টের মাধ্যমে বর্তমান সময়ের ভয়াবহতা তুলে রাখা উচিত। মাস্কের পেছনের মানুষ, তাদের না বলতে পারা কথা আমি ছবির মাধ্যমে প্রকাশ করতে চাই।’