২০০২ সালের আগস্টে সাতক্ষীরায় তখনকার বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় বিচারিক আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত ১৮ জনের মধ্যে সাতজনকে জামিন দিয়েছে উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে দ-প্রাপ্ত অন্য ১১ জনের বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী রবিবার দিন ধার্য রেখেছে হাইকোর্ট। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। জামিনপ্রাপ্তরা হলেন গোলাম রসুল, আব্দুস সামাদ, আব্দুস সাত্তার, জহিরুল ইসলাম, রাকিব, শাহাবুদ্দিন ও মনিরুল ইসলাম।
ভার্চুয়ালি জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন ও গাজী মহসীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবু ইয়াহিয়া দুলাল। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবু ইয়াহিয়া দুলাল দেশ রূপান্তরকে জানান, বিচারিক আদালতে আব্দুস সাত্তার ও আব্দুস সামাদের সাজা হয়েছিল সাড়ে চার বছর করে। আর বাকিদের সাজা হয় চার বছর করে। তিনি বলেন, ‘সাতজনকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। অন্যদের বিষয়ে রবিবার সিদ্ধান্ত জানাবে আদালত। হাইকোর্টে কারও জামিনের আদেশ হলে আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়কে অবগত করি। জামিনের এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না সে বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় সিদ্ধান্ত নেবে।’ আলোচিত এ মামলায় বিচার শেষে গত ৪ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এক রায়ে সাতক্ষীরা-১ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ তিনজনের সর্বোচ্চ ১০ বছর করে এবং বাকি ৪৭ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ-াদেশ দেয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার এক মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে দেখতে ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরার কলারোয়া সফরে যান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। সড়কপথে ঢাকায় ফেরার সময় কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে এবং নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত গাড়িবহর লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া, বোমা বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ও সাংবাদিক আহত হন। এ ঘটনায় মামলার পর তদন্ত শেষে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ১৭ মে সংশ্লিষ্ট আদালতে হত্যা চেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র আইনে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।