সড়কে পড়ে থাকা সেই বাবার দায়িত্ব নিলেন ছেলে

মৌলভীবাজারে অসুস্থ হয়ে সড়কে পড়ে থাকা অরুণ দেবের দায়িত্ব নিলেন তার বড় ছেলে সুনামগঞ্জের ব্যবসায়ী বিপ্লব দেব। ঘটনার দিন গত রবিবার বাবার অসুস্থতার কথা জানিয়ে বিপ্লব দেব ও তার বোনকে স্থানীয়রা ফোন করলেও তারা দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে গতকাল দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত ‘ব্যবসায়ী ছেলের আশ্রয়হীন বাবা পড়ে ছিলেন সড়কে’ শিরোনামের সংবাদ দেখে বাবাকে নিজের কাছে নিয়ে যান বিপ্লব।

রবিবার রাতে শহরের পুরাতন হাসপাতাল সড়কে একটি হোটেলের সামনে অসুস্থ হয়ে পড়ে যান অরুণ দেব। পরে হোটেল মালিক রিকশায় করে ঠিকানা দিয়ে বাসায় পাঠান তাকে। কিন্তু বাসায় নিতে আপত্তি জানান ছোট ছেলের বউ। তিনি জানান, দীর্ঘদিন লালন-পালন করেছেন। এখন আর তিনি কোনোভাবেই বৃদ্ধের দায়িত্ব নিতে পারবেন না। ১০ বছর আগে অর্জুন মারা যাওয়ার পরেও বড় ছেলে এবং মেয়ে তার কোনো ভরণ-পোষণ দিতেন না। তিনিই বিভিন্নভাবে কষ্ট করে যা উপার্জন করতেন তা দিয়ে শ্বশুরকে এতদিন লালন-পালন করেছেন। অভাবের কারণে তিনিও অসহায়। পরে স্থানীয়রা ফোন করে বিপ্লব দেব ও তার বোনকে। কিন্তু সেদিন তারা দুজনেই বাবার দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান। এই অবস্থায় স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে পুলিশ এসে হাসপাতালে ভর্তি করে অরুণ দেবকে। পুলিশও বিপ্লব দেব ও তার বোনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু তারা তাতেও রাজি হননি। 

তবে গতকাল দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর মঙ্গলবার বিকেলে মৌলভীবাজার শহরের সৈয়ারপুর এলাকার বোনের বাসা থেকে সিলেটের বাসায় নিয়ে যান ছেলে বিপ্লব দেব। এর আগে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল থেকে নিজের বাসায় বাবাকে নিয়ে আসেন মেয়ে।

বাবাকে নেওয়ার সময় উপস্থিত স্থানীয়দের কাছে তার সঠিক চিকিৎসা এবং ভরণ-পোষণের প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিপ্লব দেব বলেন, আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। এর আগেও আমি বাবাকে নিয়েছি। কিন্তু তিনি ভবঘুরের মতো বের হয়ে যান। ’

এ ঘটনায় প্রথম থেকে ভূমিকা রাখা মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি (তদন্ত) গোলাম মূর্তজা বলেন, ছেলে তার ভুল বুঝতে পেরেছে, বাবাকে নিয়ে সিলেট গেছে। আমি প্রথম থেকেই তাকে যোগাযোগ রেখে বুঝানোর চেষ্টা করি। আমি বলেছি, যেকোনো সাহায্য সহযোগিতায় পাশে থাকব।’