ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে পটুয়াখালীর পায়রা ও লোহালিয়া নদীর বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার পাংগাশিয়া, মুরাদিয়ার সন্তোষদি ও দক্ষিণ মুরাদিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে লেবুখালী ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে। পানির চাপে মুরাদিয়া নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার প্রভাবে সোমবার রাত থেকেই পায়রা ও লোহালিয়া নদীতে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধি পায়।
মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে হালকা বৃষ্টির পাশাপাশি থেকে থেকে দমকা হাওয়া প্রবাহের সাথে সাথে ফুঁসে ওঠে পায়রা-লোহালিয়া নদী। জোয়ারের পানিতে বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের লেবুখালী ফেরিঘাটের উভয় পাড়ের গ্যাংওয়ে তলিয়ে যানবাহন পারাপার বিঘ্নিত হচ্ছে।
অপরদিকে পাংগাশিয়া, সন্তোষদি ও কলাগাছিয়া এলাকার বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধের ফাটল দিয়ে পানি ঢুকে অন্তত ১০ গ্রাম তলিয়ে গেছে। পানিতে নিমজ্জিত এলাকার পুকুর-ডোবা ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় ওই সব গ্রামের রবি ফসল, পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।
মুরাদিয়া মহিলা মাদ্রাসা সংলগ্ন নদীতে পানির চাপে নির্মাণাধীন সেতুর অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে।
পাংগাশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলমগীর সিকদার জানান, তার ইউনিয়নের পায়রা নদী তীরবর্তী ওয়াপদা বেড়িবাঁধের অর্ধশতাধিক পয়েন্টের ফাটল ও ভাঙন দিয়ে পানি ঢুকে রাজগঞ্জ, দক্ষিণ পাঙ্গাশিয়া, মধ্যপাংগাশিয়া, বাঁশবুনিয়াসহ অন্তত ৫ গ্রাম তলিয়ে গেছে।
একইভাবে লেবুখালীর পশ্চিম আংগারিয়া, দুমকী সাতানী, মুরাদিয়ার সন্তোষদি ও দক্ষিণ মুরাদিয়ার কলাগাছিয়া গ্রামের আংশিক তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ঝোড়ো হাওয়ার গতি ক্রমশ বেড়ে যাওয়ায় ও পায়রা নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের মাঝে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বিশেষ করে নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের ও পাউবো বেড়িবাঁধের বাইরের বাসিন্দারা ঘূর্ণিঝড় আতঙ্কে তটস্থ হয়ে পড়েছেন।
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
প্রতিটি ইউনয়নের সাইক্লোন শেল্টার ও স্কুলকাম-সাইক্লোন শেল্টারগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। একই সাথে জনগণকে সচেতন করতে প্রতিটি ইউনিয়নে মাইকিং প্রচারণা চালিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।