খুলনা উপকূলে ৩-৪ ফুট উঁচু জোয়ারে বেড়িবাঁধে ভাঙন

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার প্রভাবে খুলনার সুন্দরবন সংলগ্ন নদ-নদীতে জোয়ারে পানি স্বাভাবিকের থেকে ৩ থেকে ৪ ফুট বেড়েছে। জোয়ারের পানির তোড়ে কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন বেড়িবাঁধে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ রক্ষার প্রাণান্তর চেষ্টা করলেও তা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রা ও দাকোপ উপজেলার কপোতাক্ষ, শাকবাড়িয়া, পশুর, চুনকুঁড়ি, ঢাকি, শিবসা, কাজিবাছা, ঝপঝপিয়া ও মাঙ্গা নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

কয়রা সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও ভরা পূর্ণিমার প্রভাবে কয়রার নদ-নদীতে প্রায় ৩-৪ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, বুধবার দুপুরে দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের আংটিহারা গ্রামের শ্রীপদ মণ্ডলের বাড়ির সামনে ও মহারাজপুর ইউনিয়নের শাকবাড়িয়া নদীর জোয়ারের পানির তোড়ে পবনা বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। স্থানীয় জনগণ স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁধের ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

হুমায়ুন কবির জানান, এছাড়া মঙ্গলবার রাতের জোয়ারে কপোতাক্ষ নদের গোবরা গুচ্ছ গ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ উপচে পানি ঢুকে পড়ে। গ্রামবাসী তাৎক্ষণিক মাটি দিয়ে বাঁধ রক্ষা করে। বর্তমানে ওই গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

দাকোপের তিলডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান রণজিৎ কুমার মণ্ডল বলেন, তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রায় ১৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যে কোনো সময় এসব বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাত-দিন চেষ্টা করে বেড়িবাঁধ মেরামতের চেষ্টা করা হচ্ছে।

খুলনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজিজুল হক জোয়ার্দ্দার বলেন, এখনো পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। তবে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখানো হলে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বলা হবে।

খুলনা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ মো. আমিরুল আজাদ বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বুধ ও বৃহস্পতিবার বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে বৃষ্টিপাত কমতে পারে।