খুমেক হাসপাতালের ‘ব্লাড সেল সেপারেটর’ যন্ত্র নষ্ট ৮ মাস

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে রক্তের উপাদান আলাদা করার ‘ব্লাড সেল সেপারেটর’ যন্ত্রটি প্রায় আট মাস ধরে নষ্ট হয়ে আছে। যন্ত্রটি নষ্ট থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে অতিরিক্ত খরচ করে এ প্রয়োজন মেটাতে হচ্ছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালের ৫ মার্চ ‘ব্লাড সেল সেপারেটর’ যন্ত্রটি স্থাপন করা হয়। এটি দিয়ে বিনামূল্যে সেবা দেওয়া হতো। কয়েকবার যন্ত্রটি নষ্ট হলে মেরামত করা হয়। সর্বশেষ ২০২০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর যন্ত্রটি নষ্ট হয়ে গেলে আর ঠিক করা যায়নি।

মনিরুল ইসলাম নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, বেসরকারি হাসপাতালের যন্ত্রটিও মাঝেমধ্যে নষ্ট থাকায় তাদের খুলনার বাইরে যেতে হচ্ছে। এতে অর্থ যেমন খরচ হচ্ছে তেমনি যাতায়াতের ঝামেলা তো আছেই।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনার সম্পাদক খুদরত-ই খুদা বলেন, খুলনা বিভাগের রোগীরা এখানে সেবা নিতে আসেন। এই মেশিনটি চিকিৎসার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া হাসপাতাল পরিচালকদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা গুরুত্বপূর্ণ মেশিন নষ্ট হলে ইচ্ছে করে ঠিক করে না। কারণ এসব পরীক্ষা করার জন্য তারা রোগীদের নির্দিষ্ট কিছু ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেয়। এতে তারা কমিশন পায়। এটা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি।

হাসপাতালের রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের চিকিৎসক জিল্লুর রহমান বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপের সময় এ যন্ত্র ব্যবহার করে অসংখ্য রোগীর শরীরে প্লাটিলেট দেওয়া হয়েছে। এছাড়া থ্যালাসেমিয়াসহ অন্য রোগীরাও সেবা নিত। যন্ত্রটি মেরামতের জন্য পাঁচ দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত সপ্তাহে চিঠি দেওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ খুব দ্রুত নতুন একটি যন্ত্র দিতে চেয়েছে। আর ইচ্ছে করে যন্ত্রটি ঠিক না করার অভিযোগ ঠিক নয়।

খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক এসএম কামাল বলেন, যন্ত্রটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইডিওপ্যাথিক থ্রম্বোসাইটোপেনিক পারপুরা, ডেঙ্গুসহ কিছু রোগীকে শুধু প্লাটিলেট দিতে হয়। রক্ত থেকে প্লাটিলেট আলাদা করতে এ যন্ত্র লাগে। শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এ যন্ত্র আছে। উপায় না থাকলে সেখানে রোগীদের পাঠানো হয়। তবে সেটাও মাঝেমধ্যেই নষ্ট থাকে।