দেশে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে করোনাভাইরাস সংক্রমণের নতুন রোগী শনাক্ত, মৃত্যু ও হার কমেছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে মৃত্যু, গত দুই মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে কম রোগীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৭ জন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন, যা গত ৬৯ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে সর্বশেষ গত ১৮ মার্চ এরচেয়ে কম ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এ ছাড়া চলমান করোনার দ্বিতীয় ঢেউ কমতে শুরুর পর এটাই সর্বনিম্ন মৃত্যুর ঘটনা। গত মার্চে শুরু হওয়া করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মৃত্যু সর্বোচ্চ মাত্রায় ওঠে এপ্রিলের মাঝামাঝিতে। ওই সময় অন্তত ৫ দিন দৈনিক মৃত্যু ১০০ ছাড়িয়ে যায়। এপ্রিলের শেষে মৃত্যু কমতে শুরু করে। কমতে শুরুর পর গতকালই সর্বনিম্ন মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।
এদিকে গত মঙ্গলবার শনাক্ত হার হঠাৎ করে বেড়ে গিয়ে ১০ শতাংশে ওঠার পর গতকাল তা কিছু কমে ৯ শতাংশে নেমেছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, এদিন ৯ দশমিক ১১ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে পাঁচ দিন ধরে শনাক্ত হার ৮-১০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। এর আগে ঈদের পরের তিন দিন (১৫-১৭ মে) শনাক্ত হার ৬ শতাংশে নেমেছিল। কিন্তু এরপর থেকে শনাক্ত হার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় রয়েছে। গতকাল ১৬ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষায় ১ হাজার ৪৯৭ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর গতকাল ছিল ৪৪৪তম দিন। অধিদপ্তরের এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশে ৪৮৬টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪২টি জিন-এক্সপার্ট, ৩১৫টি র্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১২৯টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৬ হাজার ৩৪২ জনের। আগের কিছুসহ পরীক্ষা করা হয়েছে ১৬ হাজার ৪৩৪ জনের, যার মধ্যে ৩৯৬টি নমুনা ছিল বিদেশ গমনেচ্ছুদের। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ৫৮ লাখ ৭১ হাজার ৩৫৩টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭ লাখ ৯৩ হাজার ৬৯৩ জন। মোট পরীক্ষার বিপরীতে গড়ে ১৩ দশমিক ৫২ শতাংশ লোকের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১২ হাজার ৪৫৮ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৫৬ জনসহ সুস্থ হয়েছে ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬৬ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫৭ ও সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১০ ও নারী ৭ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৯ হাজার ৫ পুরুষ ও ৩ হাজার ৪৫৩ নারী মৃত্যুবরণ করেছেন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭২ দশমিক ২৮ ও নারী ২৭ দশমিক ৭২ ভাগ। এদিন সর্বোচ্চ ৮ জন মারা গেছেন চট্টগ্রাম বিভাগে। বাকিদের মধ্যে ঢাকায় ৫ এবং খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও ময়মনসিংহে ১ জন করে মারা গেছেন। এ নিয়ে করোনায় এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭ হাজার ১৩২ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২ হাজার ৩৬৬, খুলনায় ৭৬৩, রাজশাহীতে ৬৬০, রংপুরে ৪৫৭, সিলেটে ৪৪৬, বরিশালে ৩৭৮ এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ২৫৬ জন মারা গেছেন। বয়স অনুযায়ী সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১১, ৫১-৬০ বছরের ৪, ৪১-৫০ বছরের ১ এবং ৩১-৪০ বছরের ছিলেন ১ জন। এদিন সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৩৯ রোগীকে আইসোলেশনে ও ১ হাজার ৪৭০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১৮ হাজার ৩৯৩ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪৩ হাজার ৪৯৬ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোয় ১২ হাজার ৩টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ১৩০টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ১ হাজার ১৪৩টি আইসিইউর মধ্যে এদিন রোগী ভর্তি ছিল ৩২৪টিতে।