যুক্তরাষ্ট্রে ৮ সহকর্মীকে গুলি করে হত্যার পর রেলকর্মীর আত্মহত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি রেল ইয়ার্ডে এক পরিবহন কর্মী নিজের আট সহকর্মীকে গুলি করে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন। গুরুতর আহত অপর এক সহকর্মী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বুধবার সিলিকন ভ্যালির কেন্দ্রস্থল সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার সান হোসে শহরের সান্তা ক্লারা ভ্যালি ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (ভিটিএ) রেল ইয়ার্ডে এ ঘটনা।

এদিকে বিবিসি বলছে, কর্র্তৃপক্ষ বন্দুকধারীর নাম বা বয়স প্রকাশ করেনি। কিন্তু সান হোসে মারকারি নিউজ ও অন্যান্য গণমাধ্যম তাকে রেল ইয়ার্ডের রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী স্যামুয়েল ক্যাসিডি (৫৭) বলে শনাক্ত করেছে।

তবে হামলাকারী কেন এ ঘটনা ঘটালেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ছাড়া তিনি এর আগে কোনো ধরনের সহিংসতায় জড়িত ছিলেন কিনা বা নজরদারিতে ছিলেন কিনা, সেটাও জানাতে পারেনি নিরাপত্তা বাহিনী।

তবে শহরটির শেরিফ লরি স্মিথ জানিয়েছেন, তার প্রথম ডেপুটিরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পরও গুলি চলছিল, কিন্তু পুলিশ তার দিকে এগিয়ে আসছে সম্ভবত এমনটি টের পেয়ে হামলাকারী নিজের জীবন শেষ করে দেন। কর্মকর্তারা সন্দেহভাজনের সঙ্গে কোনো গুলি বিনিময় করেনি বলে জানিয়েছেন তার ডেপুটি ডেভিস।

সান হোসের মেয়র স্যাম লিকার্ডো বলেন, ‘আমাদের শহরের জন্য এটি ছিল ভয়ংকর এক দিন। তিনি বলেন, এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেটি নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য হবে।’ আহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান বলেও জানান মেয়র স্যাম লিকার্ডো।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, রেলকর্মীদের এক বৈঠক চলাকালীন এ বন্দুক হামলা চলে। এর ঠিক আগ মুহূর্তে এক রেলকর্মীর ঘরে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, গুলি চালানোর আগে বন্দুকধারী নিজের ঘরে আগুন লাগান। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার পরপরই আশপাশের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্থানীয় সময় দুপুর পর্যন্ত বন্ধ থাকে রেল যোগাযোগও। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এক টুইটে বলেন, ‘স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি এবং পরিস্থিতি গভীর পর্যবেক্ষণ করছি।’

এদিকে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, গুলিবর্ষণের ঘটনার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে অবহিত করা হয়েছে এবং তার কর্মীরা সান হোসের স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।