বগুড়ায় চলন্ত বাসের গতিরোধ করে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই নেতাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা। ছুরিকাহত দুজন সম্পর্কে আপন ভাই।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ বগুড়া শহরের স্টেশন রোডের জামিল নগর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। একটি মারপিট মামলায় ওই দুই ভাই আদালত থেকে জামিন নিয়ে বাসযোগে বাড়ি ফিরছিলেন।
ছুরিকাঘাতে আহতরা হলেন নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক তারেক হোসেন (৩৩) ও তার ছোট ভাই যুবলীগ নেতা মনির হোসেন (২৮)। তারা নন্দীগ্রাম উপজেলার ভুস্কুর ইসলামপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। তারা বর্তমানে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তারেক হোসেন জানান, বগুড়া শহরের স্টেশন রোড থেকে দুই ভাই বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে হাটকড়ইগামী এসএস খান পরিবহন নামের একটি বাসে ওঠেন। বাসটি জামিলনগর এলাকায় জনসেবা হাউজিংয়ের সামনে পৌঁছালে জনা ১৫ দুর্বৃত্ত বাসের সামনে দাঁড়িয়ে গতিরোধ করে। এরপর তারা বাসের ভেতর উঠে চালকের কাছ থেকে বাসের চাবি কেড়ে নেয়। এ সময় বাসের অন্য যাত্রীদের সামনে দুর্বৃত্তরা দুই ভাইকে ছুরিকাঘাত করে চালককে চাবি ফেরত দিয়ে নেমে যায়। পরে চালক বাসটি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তাদের দুই ভাইকে ভর্তি করে দেয়।
তারেক হোসেন আরও জানান, তার ভাইয়ের বাম হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন করতে হবে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, নন্দীগ্রামের ইসলামপুর ভুস্কুর আলিম মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। বেশ কিছুদিন ধরে তারেক হোসেনের সঙ্গে একই এলাকার বিএনপি কর্মী নাজমুস সাহাদত সোহেলের এই দ্বন্দ্ব। এরই মাঝে শিক্ষা বোর্ড থেকে নাজমুস সাহাদত সোহেলকে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়ন দেওয়া হলে গত ২৬ মে তারেক ও তার সহযোগীরা মাদ্রাসায় গিয়ে নতুন সভাপতি ও অধ্যক্ষকে মারপিট করে আটকে রাখেন। ওই এ ঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় জামিন নিয়েই বাড়ি ফিরছিলেন ওই দুই ভাই।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন জানান, তারেকের জন্য আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহম্মেদ পলক এবং সোহেলের জন্য বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে সুপারিশপত্র দেন। গত ২ এপ্রিল মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে সুপারিশপত্রসহ ওই দুজনেরই নাম প্রেরণ করা হয়। গত ১৪ এপ্রিল মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে সোহেলের নাম অনুমোদন করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ২৬ মে দুপুরে তাকে (অধ্যক্ষ) ও অ্যাডহক কমিটির নতুন সভাপতি সোহেলকে মারপিট করে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ ছুরিকাঘাতের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সদর থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং আহতদের সাথে কথা বলেছে। ঘটনার সাথে জড়িতরা নন্দীগ্রাম থানা এলাকার বাসিন্দা বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে নন্দীগ্রাম থানায় ইতিমধ্যেই বার্তা পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।