করোনাভাইরাস মহামারীর পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা সরাসরি ও অনলাইনে নেওয়ার ব্যবস্থা নিতে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। গতকাল শুক্রবার ইউজিসি সচিব ড. ফেরদৌস জামানের স্বাক্ষর করা চিঠি সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের রেজিস্ট্রারদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ইউজিসির ওই চিঠিতে বলা হয়, কভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা জরুরি। তাই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পরীক্ষা সরাসরি ও অনলাইন পদ্ধতিতে গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
চিঠিতে আরও বলা হয়, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক ও শিক্ষাজীবনের কথা বিবেচনা করে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার বিষয়ে সকল বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ও সরকার নির্দেশনা প্রদান করেছে।
মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এক বছরের বেশি সময় অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান থাকায় এরই মধ্যে শিক্ষার্থীরা দুটি টার্মের প্রায় সব কোর্স সম্পন্ন করেছে। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে তৃতীয় সেমিস্টারের পাঠদানও শুরু করেছে। অনলাইনে ক্লাস টেস্ট ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করেছে। কিন্তু পর পর দুই সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণ না করায় কোন সেমিস্টারের পরীক্ষা আগে হবে, করোনা মহামারী পরিস্থিতির উন্নতি হলে পরীক্ষার আগে কত দিন রিভিউ ক্লাস হবে, ভবিষ্যতে বিভিন্ন সেমিস্টারের কোর্সসমূহের ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি, আন্তঃসেমিস্টার অবকাশ, প্রিরিকউজিট কোর্স সম্পন্ন না করে পরবর্তী কোর্স সম্পন্নসহ বিভিন্ন বিষয়ে একাডেমিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের আবাসিক হলে আসন স্বল্পতা থাকায় একই কক্ষে একাধিক শিক্ষার্থীর অবস্থান এবং সার্বিকভাবে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে সেমিস্টার শেষে স্বাস্থ্যবিধি মেনেও ইনপারসন চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। সমান্তরালভাবে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে অনলাইনে চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। ইন্টারনেট সংযোগের অভাব, অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার নির্ভরযোগ্য সফটওয়্যার ও যন্ত্রপাতি নির্বাচন এবং অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণের পদ্ধতির বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো রূপরেখা না থাকাসহ বিভিন্ন কারণে অনলাইনে চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণ সম্ভব হচ্ছিল না।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্র্তৃক বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিভিন্ন পরীক্ষা অনলাইনে গ্রহণের বিষয়ে সুপারিশ প্রদানের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. দিল আফরোজা বেগমকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি বিভিন্ন দেশে কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের ওপর একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে অনলাইন ও ইনপারসন উভয় পদ্ধতি চালু রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। সুপারিশে তারা বলেন, বিভিন্ন দেশে লকডাউন অবস্থায় অনলাইনে ক্লাস হয় এবং লকডাউন উঠে গেলে ইনপারসন ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তারা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার মতামত দেন।
২০২২-এর এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ : ২০২২ সালের এসএসসি-এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার জন্য সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচি (সিলেবাস) প্রকাশ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তুক বোর্ড (এনসিটিবি) দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে। এদিন এনসিটিবি ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে এই পাঠ্যসূচি প্রকাশ করা হয়েছে। পাঠ্যসূচি অনুযায়ী এসএসসি ও সমমানের জন্য ১৫০ দিন এবং এইচএসসি ও সমমানের জন্য ১৮০ দিন ক্লাস নির্ধারণ করা হয়েছে।
করোনা মহামারীর কারণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বড় কোনো পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল জেএসসি এবং এসএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে দেওয়া হয়। টানা ১৪ মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়েও ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়। তবে সর্বশেষ গত বুধবার শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এক সংবাদ সম্মেলনে ১৩ জুন থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনার কথা জানান। তিনি জানান, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ৬০ দিন এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ৮৪ দিন ক্লাস নেওয়া হবে। এরপর সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যা তাদের জন্য আগেই নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সেই সিলেবাস প্রকাশ করা হলো।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এনসিটিবি থেকে পাঠানো ২০২২ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচি পাঠানো হলো। পুনর্বিন্যাস করা পাঠ্যসূচির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হলো। নির্দেশনায় আরও জানানো হয়, আগামী ১৩ জুন থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর এ পাঠ্যসূচি প্রকাশ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তা পাঠানো হলো।