‘গুম’ হওয়া ব্যক্তিদের অবিলম্বে সন্ধান দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা। তারা বলেছেন, এখনো স্বজনদের ফেরার অপেক্ষায় আছেন। ‘আন্তর্জাতিক গুম সপ্তাহ’ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন ‘গুম’ হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরা।
‘মায়ের ডাক’ নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে অংশ নিয়ে নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস বলেন, ভারতের টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে আন্দোলন করতে গিয়ে আমার বাবা ও তার গাড়িচালক ‘গুম’ হন।
আবরার ইলিয়াস বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন আমার বাবা। সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন জায়গায় ধর্ণা দিয়েও তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের প্রতি যে অন্যায় হয়েছে তার থেকে প্রতিকার পেতে হলে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’
ইসমাইল হোসেন বাতেন ২০১৯ সালের ২০ জুন নিখোঁজ হন। মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তার মেয়ে আনিসা ইসলাম বলেন, ‘বাবাকে ফিরে পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী র্যাবের কাছেও অভিযোগ করেছি আমরা। কিন্তু দুই বছর হয়ে গেলেও এখনো কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।’
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে দেওয়া বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘প্রতি বছরই স্বজনরা বুক চাপড়ে নিখোঁজ স্বজনদের ফিরে পেতে চান, তাদের খবর জানতে চান। এখানে অনেক শিশু তাদের কথা বলেছে, যা শুনে আমার চোখের কোণে পানি এসেছে। যতবারই এই অনুষ্ঠানে আসি, ততবারই এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য বুকের ভেতর নিতে হয়েছে। কিন্তু এই সরকার অমানবিক সরকার। তাই কেঁদে চোখের জল ফেলে বিচার চেয়ে কোনো লাভ নেই।’
দৃকের প্রতিষ্ঠাতা আলোকচিত্রী শহীদুল আলম বলেন, ‘এখানে যে শিশুরা রয়েছে তারা বছরের পর বছর অপেক্ষা করছে। কিন্তু ছবির মানুষটা কী অবস্থায় আছে জানে না। তাদের খুঁজে বের করার কোনো উদ্যোগ সরকারের নেই।’
ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ‘এটা আমাদের দুর্ভাগ্য যে স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসেও এসব নিখোঁজদের ছবি নিয়ে আমাদের রাস্তায় দাঁড়াতে হয়েছে। শুধু ভিন্নমত ও রাজনীতির কারণে তাদের গুম করা হয়েছে। বিরোধী দলের মনোবল ভেঙে দিতে এমন করা হয়েছে।’
আয়োজক সংগঠনের সমন্বয়কারী আফরোজা ইসলাম আঁখির সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অধিকারের পরিচালক নাসির উদ্দিন এলান, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম লালা, নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের মধ্যে সাজেদুল ইসলাম সুমনের বড় বোন মারুফা ইসলাম ফেরদৌসী, মনির হোসেনের বড় ভাই শহিদুল্লাহ, গাড়িচালক কাউসারের মেয়ে লামিয়া আক্তার মিম, মো. তারিকুল ইসলাম ঝন্টুর মা হাসিনা বেগম, ইসলাম হোসেন বাতেনের মেয়ে আনিসা ইসলাম ইনশা, মোয়াজ্জেম হোসেন তপুর মামা কামাল হোসেন, মাইকেল চাকমার পক্ষে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ নেতা রিপন জ্যোতি চাকমা এবং নিখোঁজ হওয়ার পর ফিরে আসাদের মধ্যে মেহেদি হাসান ও তারেক প্রমুখ।
মানববন্ধনে যোগ দেন গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, মানবাধিকার সংগঠক নূর খান লিটন, ‘নিরাপদ বাংলাদেশ চাই’র চেয়ারম্যান খন্দকার মাসুদ উজ জামান, ছাত্রনেতা মামুন খান প্রমুখ।