চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৭ জনের শরীরে ভারতীয় ধরন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাতজনের শরীরে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে। করোনায় আক্রান্তদের জিনোম সিকুয়েন্সিং করে ওই সাত জনের শরীরে ভাইরাসটির ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয় বলে গত শুক্রবার রাতে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পক্ষ থেকে জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, ওই সাতজনের সবাই সুস্থ আছেন। তাদের শরীরে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত হলেও ওই সাতজনের কেউই সম্প্রতি ভারত ভ্রমণ করেননি।

এদিকে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্তের খবরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গতকাল শনিবার লকডাউনের পঞ্চম দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর ও শহরতলিতে আগের দিনের তুলনায় অনেক কম মানুষকে দেখা গেছে। সকালের দিকে সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা ছিল। প্রধান প্রধান মার্কেটগুলো বন্ধ থাকলেও কাঁচাবাজার খোলা ছিল। কিছু মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার জন্য বের হয়েছিলেন। আন্তঃজেলা সড়কগুলো বন্ধ থাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী ও নওগাঁ রুটে বাস চলাচলও বন্ধ ছিল। তবে উপজেলা শহরগুলোতে কেবল কিছু রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল করেছে।

আইইডিসিআর বলছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে যে সাত জনের শরীরে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে তার মধ্যে পাঁচজন পুরুষ ও দুজন নারী। পুরুষ পাঁচজনের মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠজনের বয়স ১৩ বছর। এক জনের বয়স ৩০ বছর, আরেক জনের বয়স ২১ বছর। বাকি দুজন হলো ৫২ এবং ২৭ বছর বয়সী। নারী দুজনের মধ্যে একজনের বয়স ২৭ বছর এবং আরেকজনের ৩১ বছর।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাত জনের শরীরে ভারতীয় ধরন শনাক্তের খবর অফিশিয়ালি আমাদের কাছে আসেনি। গতকাল স্বাস্থ্য বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছ থেকে বিষয়টি জেনেছি। এর পরপরই ওই সাতজনকে পুনরায় করোনা পরীক্ষার এবং তাদের আত্মীয়স্বজনসহ তাদের সংস্পর্শে যারা এসেছেন, তাদের চিহ্নিত করে করোনা পরীক্ষার উদ্যোগ নিচ্ছি। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের অনেক ধরন রয়েছে। তারা কোন ধরনে আক্রান্ত এবং তাদের শারীরিক অবস্থা কী তা আমি বলতে পারব না। বিশেষজ্ঞরাই বলতে পারবেন।’  

এর আগে গত ৮ মে বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়। আর এখন পর্যন্ত দেশে মোট ২০ জনের শরীরে ভাইরাসটির ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে। করোনার এ ধরনটি ভারতে বেশ কয়েকবার রূপ বদল করেছে। এ ঘটনায় ধরনটিকে উদ্বেগজনক হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।