স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি

আজ আসছে ফাইজারের টিকা

প্রাণঘাতী করোনার সংক্রমণ রোধে কোভ্যাক্সের পক্ষ থেকে ফাইজারের ১ লাখ ৬২০ ডোজ টিকা আসছে আজ সোমবার। গতকাল রবিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে এ টিকা দেশে আসবে। ফাইজারের টিকা গতকাল রাতে দেশে আসার কথা ছিল। তবে এ টিকা ১০ দিন পরে আসবে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে সংবাদ প্রচার হচ্ছে তা সঠিক নয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক বলেন, ‘আমরা জানতাম আজ (রবিবার) রাতেই যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি ফাইজার ও জার্মান জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানি বায়োএনটেকের তৈরি করোনাভাইরাস প্রতিষেধক টিকার প্রথম চালান আসছে। কিন্তু পরে কার্গোর কনফারমেশনের তথ্য নিতে গিয়ে দেখি আজ রাতে নয়, আগামীকাল (সোমবার) রাতে এসে পৌঁছবে। আজ রাত ১১টা ২০ মিনিটে এসে টিকা পৌঁছবে বলে আশা করছি।’

গত বছর ২ ডিসেম্বর বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য ফাইজারের টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমতি দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে এখন এ টিকা প্রয়োগ করা হচ্ছে। গত বছর ৩১ ডিসেম্বর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও তাদের জরুরি ব্যবহার্য টিকার তালিকায় ফাইজারের ভ্যাকসিনকে অন্তর্ভুক্ত করে। গত বৃহস্পতিবার দেশে ফাইজারের টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কভিশিল্ড বা সিনোফার্মের তৈরি টিকার মতোই ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকাও নিতে হবে দুই ডোজ করে। প্রথম ডোজ দেওয়ার তিন থেকে চার সপ্তাহ পর দিতে হবে দ্বিতীয় ডোজ। ১২ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ওপর ফাইজারের টিকা প্রয়োগ করা যাবে। চূড়ান্ত ধাপের ট্রায়ালে এ টিকা ৯৫ শতাংশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে বলে উৎপাদকদের ভাষ্য।

পরীক্ষামূলক প্রয়োগে তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকারিতা দেখালেও ফাইজারের টিকা সংরক্ষণ ও সরবরাহের কাজটি কভিশিল্ডের মতো সহজ নয়। কভিশিল্ড যেখানে সাধারণ রেফ্রিজারেটরে ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা সম্ভব, সেখানে ফাইজারের টিকা মাইনাস ৯০ ডিগ্রি থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সংরক্ষণ করতে হবে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ টিকা ২ ডিগ্রি থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পাঁচ দিন রাখা যাবে। আর রেফ্রিজারেটরের বাইরে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এ টিকা দুই ঘণ্টা ভালো থাকবে।