দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি বা কুম্ভিলকবৃত্তি বা প্ল্যাজিয়ারিজম ঠেকাতে এবার অ্যান্টি-প্ল্যাজিয়ারিজম সফটওয়্যার ‘টার্নইটইন’ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। গতকাল রবিবার ইউজিসির ‘প্ল্যাজিয়ারিজম চেকার ওয়েব সার্ভিস’ ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গতকাল ইউজিসির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টার্নইটইন সফটওয়্যারের ‘আইদেনটিকেট’ (রঞযবহঃরপধঃব) অংশ গবেষক এবং শিক্ষকদের গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি ও ‘ফিডব্যাক স্টুডিও’ দিয়ে শিক্ষার্থীদের থিসিস চৌর্যবৃত্তির বিষয়টি নির্ধারণ করা যাবে।
এ বিষয়ে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আবু তাহের বলেন, প্রাথমিকভাবে ৩০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এই সফটওয়্যারের সেবা সরবরাহ করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিশ^বিদ্যালয়ে এর ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এই সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে গবেষণার স্বত্ব সংরক্ষণ ও মৌলিকত্ব নিশ্চিত করা সহজ হবে। বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার গবেষণা কার্যক্রমের গুণগতমান সংরক্ষণ ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এই সফটওয়্যার।
তিনি আরও বলেন, এর লক্ষ্য হচ্ছে গবেষণায় যাতে কোনো ধরনের চৌর্যবৃত্তির ঘটনা না ঘটে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ। গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি মোটেও কাম্য নয়। গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি করে দেশ খুব বেশি দূর এগোতে পারবে না।
এ বিষয়ে অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণাক্ষেত্রে চৌর্যবৃত্তির ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সংক্রান্ত নীতিমালা না থাকায় গবেষণা কার্যক্রমে চৌর্যবৃত্তির বিষয়টি সংজ্ঞায়িত করা যাচ্ছে না। তাই চৌর্যবৃত্তি শনাক্ত করতে একটি নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। টার্নইটইন সফটওয়্যার ব্যবহারের জন্য দ্রুত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারের জন্য এ সফটওয়্যারের একটি রোডম্যাপ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির এ সফটওয়্যার ক্রয় সংস্থাপন বেশ ব্যয়বহুল। তাই এর সর্বোচ্চ ব্যবহারের দিকে আমাদের নজর রাখতে হবে। সভায় বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, ব্যবহারবিধি, ব্যয় নির্ধারণে পৃথক কমিটি গঠন করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বর্তমানে ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব উদ্যোগে এই সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। এ সফটওয়্যারের সর্বশেষ অবস্থা জানতে সভায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।