মিতু হত্যা: নিরাপত্তা চেয়ে আসামি মুছার স্ত্রী পান্নার জিডি

চট্টগ্রামে মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যা মামলার পলাতক আসামি কামরুল ইসলাম শিকদার মুছার স্ত্রী পান্না আক্তার নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেছেন।

আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার পরদিনই ক্ষতির আশঙ্কায় মঙ্গলবার দুপুরে তিনি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বলে রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মাহবুব মিল্কী জানান।

ওসি বলেন, ২০১৬ সালে ঘটনার পর তাকে ফোনে হুমকি দেওয়া হয়। সোমবার তিনি জবানবন্দি দিয়েছেন। তাই নিজের ক্ষতি হতে পারে ভেবে তিনি জিডি করেছেন বলে জানিয়েছেন।

কামরুল ইসলাম শিকদার মুছা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মধ্যম ঘাগড়া গ্রামের শাহ আলমের ছেলে। তিনি নগরীর বাকলিয়া থানার কালামিয়া বাজার এলাকায় স্ত্রী সন্তান নিয়ে থাকতেন।

সোমবার চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মো. রেজার কাছে পান্না আক্তার ১৬৪ ধারায় সাক্ষী হিসেবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

একসময় সৌদি আরবে থাকা মুছা ২০০২ সালে দেশে ফিরে বালু সরবরাহের ব্যবসা শুরু করেন। তখনই পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার ‘সখ্য’ গড়ে ওঠে।

২০০৩ সালে পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর মুছা তার ‘সোর্স’ হিসেবে কাজ শুরু করে।

পুলিশ মুছাকে পলাতক বললেও তার স্ত্রী পান্নার দাবি, ২০১৬ সালের ২২ জুন সকালে বন্দরনগরীর কাঠগড় এলাকার একটি বাসা থেকে তার স্বামীকে পুলিশই তুলে নিয়ে যায়। সেদিনই মুছা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলেও দাবি পান্নার।

মিতু হত্যার ঘটনায় নিহতের বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেনের করা হত্যা মামলার প্রধান আসামি পুলিশের সাবেক এসপি ও নিহতের স্বামী বাবুল আক্তার আর তার ‘সোর্স’ হিসেবে পরিচিত কামরুল ইসলাম শিকদার মুছা।

২০১৬ সালের ৫ জুন বন্দরনগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় খুন হন চট্টগ্রামে বিভিন্ন জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু।