পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিকানায় পরিবর্তন আসছে। কোম্পানিটির ‘গ্রুপ বি’ শেয়ারধারী চার পরিচালকের শেয়ার কেনার অনুমোদন পেয়েছে মেহমুদ ইকুইটিজ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। চার শেয়ারধারী পরিচালকের ১০ শতাংশ শেয়ার কিনতে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য শেয়ারধারণ সংক্রান্ত সিকিউরিটিজ আইন থেকে অব্যাহতি দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এর মাধ্যমে মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের একাধিক পরিচালক পদ নেওয়ার পাশাপাশি কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও পেতে যাচ্ছে মেহমুদ ইকুইটিজ।
সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সঙ্গে চার জন শেয়ারধারী পরিচালকের একটি যৌথ মালিকানার কোম্পানি হচ্ছে মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ। কোম্পানিটির প্রকৃত শেয়ারহোল্ডার চুক্তি অনুযায়ী মিরাকলে দুই ধরনের শেয়ারধারী রয়েছেন, এরমধ্যে বিসিআইসির ২০ শতাংশ শেয়ার ‘গ্রুপ-এ’র অন্তর্ভুক্ত। কোম্পানিটিতে বিসিআইসির মনোনীত তিনজন পরিচালক রয়েছেন। এছাড়া কোম্পানিটির অন্য চার পরিচালকের শেয়ার ‘গ্রুপ-বি’র অন্তর্ভুক্ত, যাদের ১০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর ধরেই মিরাকলের গ্রুপ-এ ও গ্রুপ-বি শেয়ারধারী পরিচালকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে, যার প্রভাব কোম্পানিটির পরিচালন ও ব্যবস্থাপনায় পড়ছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে ২০১৯-২০ হিসাব বছরে মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ বড় অংকের লোকসানে পড়েছে। বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ উৎপাদনকারী কোম্পানিটি এ সময় ১২ কোটি ৭৩ লাখ টাকার নিট লোকসানে পড়ে। গত তিন বছর ধরে কোম্পানিটি চলতি মূলধন সংকটেও রয়েছে। গ্রুপ-বি শেয়ারধারী পরিচালক রফিকুল মুর্শেদ মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বও পালন করছেন।
পরিচালকদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে গত বছরের সেপ্টেম্বরে গ্রুপ-বি’র চার পরিচালক রফিকুল মোর্শেদ, ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী, আসাদুর রহমান মির্জা ও পাভার্টন সিকিউরিটিজ লিমিটেড তাদের সব শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। তবে এতে করে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিত শেয়ার ন্যূনতম ৩০ শতাংশ রাখার বাধ্যবাধকতার কারণে সংশ্লিষ্ট শেয়ার মেহমুদ ইকুইটিজের কাছে বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হয়। মেহমুদ ইকুইটিজ ও সংশ্লিষ্ট চার পরিচালকের ‘সমঝোতা চুক্তি’ ও এসইসির কাছে আবেদনের ভিত্তিতে গত ২৩ মে এসইসি শর্তসাপেক্ষে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শেয়ার অর্জন, অধিগ্রহণ ও কর্তৃত্ব গ্রহণ) বিধিমালা, ২০১৮ এর পরিচালকদের এই শেয়ার হস্তান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়।
শেয়ার হস্তান্তরে এসইসির দেওয়া শর্তানুযায়ী, চার পরিচালকের শেয়ার যেদিন হস্তান্তর হবে, সেদিন থেকে ওই শেয়ার ৫ বছর লক ইন (শেয়ার হস্তান্তর ও বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা) থাকবে এবং ওই শেয়ারের ক্রেতা প্রতিষ্ঠান মিরাকলের পরিচালনা পর্ষদের প্রতিনিধি হবেন। শেয়ার হস্তান্তরের আগেই কোম্পানিকে ২০১৯-২০ হিসাব বছরের অপরিশোধিত লভ্যাংশ পরিশোধ করতে হবে। পরবর্তী তিন বছর মিরাকল কোনো স্টক বা বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না।
১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানা রয়েছে শ্রীপুর ও গাজীপুরে। কোম্পানিটি বিভিন্ন ধরনের পিপি ওভেন ব্যাগ, লেমিনেশনসহ লাইনার ব্যাগ, সিমেন্ট, সার, লবণ, চিনি ও কেমিক্যালের জন্য জাম্বু ব্যাগ উৎপাদন করে। মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের পরিশোধিত মূলধন রয়েছে ৩৫ কোটি ২১ লাখ টাকা। চলতি তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটি ২ কোটি ৭৪ লাখ টাকার লোকসানে রয়েছে।