দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ফের বাড়তির দিকে। গতকাল মঙ্গলবার গত প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুর পাশাপাশি প্রায় চার সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্তের তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার তথ্যে এদিন অধিদপ্তর জানায়, দেশে আরও ৪১ জন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন, যা গত ২৩ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বশেষ গত ৯ মে এরচেয়ে বেশি ৫৬ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। এদিন মৃতদের ৩৪ জনই ছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব এবং ১৫ জন ছিলেন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। অন্যদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১ হাজার ৭৬৫ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা গত ২৬ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বশেষ গত ৬ মে এরচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছিল।
দেশে গত মার্চ থেকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়। সেই ঢেউ বাড়তে বাড়তে এপ্রিলে এসে চূড়ায় ওঠে। তখন এক দিনে সর্বোচ্চ ১১২ মৃত্যুর পাশাপাশি এক দিনে সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ হাজারের বেশি রোগী শনাক্তের ঘটনা ঘটে। এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে এই ঢেউ কমতে শুরু করে। কমতে কমতে গত ২৬ মে দৈনিক মৃত্যু সর্বনিম্ন ১৭ জনে নামে। পাশাপাশি দৈনিক শনাক্তও কমে হাজারে এসে ঠেকে। যদিও ঈদের পরের দুই দিন পরীক্ষা কম হওয়ায় শনাক্ত হাজারের নিচে নামে। তবে গত কয়েক দিন ধরে আবার শনাক্ত ও মৃত্যু বাড়ছে। একই সঙ্গে শনাক্ত হারও বাড়ছে। দ্বিতীয় ঢেউ কমতে শুরুর পর ঈদের পরের তিন দিন শনাক্ত হার সর্বনি¤œ ৬ শতাংশে নেমেছিল। কিন্তু তার পর থেকে শনাক্ত হার বাড়তির দিকে রয়েছে। এর মাঝে অন্তত দুই দিন এই হার ১০ শতাংশের ওপরে উঠেছে। গতকালও ১০ শতাংশের কাছাকাছি হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৮ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষায় ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে।
গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর গতকাল ছিল ৪৫০তম দিন। অধিদপ্তরের এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ৫০৩টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৪টি জিন-এক্সপার্ট, ৩৩০টি র্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১২৯টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৮ হাজার ৫৩৬ জনের। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ১৮ হাজার ২৫০ জনের, যার মধ্যে ৪২৪টি নমুনা ছিল বিদেশ গমনেচ্ছুদের। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ৫৯ লাখ ৬৫ হাজার ৭৬৩টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮ লাখ ২ হাজার ৩০৫ জন। মোট পরীক্ষার বিপরীতে গড়ে ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ লোকের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১২ হাজার ৬৬০ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৭৭৯ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৪২ হাজার ১৫১ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫৮ ও সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৫০ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২৬ ও নারী ১৫ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৯ হাজার ১৩৯ পুরুষ ও ৩ হাজার ৫২১ নারী মৃত্যুবরণ করেছেন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭২ দশমিক ১৯ ও নারী ২৭ দশমিক ৮১ ভাগ। এদিন সর্বোচ্চ ১৫ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। বাকিদের মধ্যে চট্টগ্রামে ১১, রাজশাহীতে ৬, খুলনায় ৪, সিলেটে ৩ এবং বরিশালে ২ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে করোনায় এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭ হাজার ১৮৭ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২ হাজার ৪২০, খুলনায় ৭৯২, রাজশাহীতে ৬৯১, রংপুরে ৪৬৭, সিলেটে ৪৬১, বরিশালে ৩৮৪ এবং ময়মনসিংহে সর্বনি¤œ ২৫৮ জন মারা গেছেন। বয়স অনুযায়ী সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ২৪, ৫১-৬০ বছরের ১০, ৪১-৫০ বছরের ৪, ৩১-৪০ বছরের ২ জন এবং ০-১০ বছরের শিশু ছিল ১টি। এদিন ৩৮ জন হাসপাতালে এবং ৩ জন বাসায় মারা গেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৫২ রোগীকে আইসোলেশনে এবং ১ হাজার ৬২৩ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১৯ হাজার ৪৮১ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪৩ হাজার ৬৯৫ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোয় ১১ হাজার ৯০৯টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ৫০৯টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ১ হাজার ১৩০টি আইসিইউর মধ্যে এদিন রোগী ভর্তি ছিল ৩৩২টিতে।