খুলনা পাওয়ার কোম্পানির পর এবার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালসের দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যে ভাড়াভিত্তিক ওই দুই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এ তথ্য জানিয়েছে ওরিয়ন ফার্মা।
গতকাল ডিএসইকে ওরিয়ন ফার্মা জানিয়েছে, সাবসিডিয়ারি দুই পাওয়ার কোম্পানির মধ্যে একটি পাওয়ার প্ল্যান্টের সঙ্গে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে গত মে মাসে। আরেকটির মেয়াদ শেষ হবে জুলাই মাসে। তবে চুক্তি ৫ বছর বাড়ানোর জন্য ওরিয়ন কর্তৃপক্ষ সরকারের কাছে আবেদন করেছে। এর আগে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানি খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (কেপিসিএল) দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বন্ধ করে দিতে হয়।
ওরিয়ন ফার্মার সাবসিডিয়ারি কোম্পানি দুটি হচ্ছে- ওরিয়ন পাওয়ার মেঘনাঘাট ও ডাচ-বাংলা পাওয়ার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস। এই দুই পাওয়ার কোম্পানির মধ্যে ওরিয়ন পাওয়ার মেঘনাঘাটের সঙ্গে বিপিডিবির চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে মে মাসে। আর ডাচ-বাংলা পাওয়ার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের সঙ্গে শেষ হবে জুলাই মাসে। ২০১৯-২০ হিসাব বছরে এই দুই পাওয়ার প্ল্যান্টের সম্মিলিত নিট মুনাফা হয় ৫৪ কোটি টাকারও বেশি। বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটি বন্ধ হয়ে গেলে ওরিয়ন ফার্মার নিট মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ভাড়াভিত্তিক ১০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার ওরিয়ন পাওয়ার মেঘনাঘাটের ৯৫ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে ওরিয়ন ফার্মার। ২০১৯-২০ হিসাব বছরে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৭০ কোটি টাকার রেভিনিউ আসে। এ সময় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নিট মুনাফা হয় ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরে এই কেন্দ্রটি থেকে ৫৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকার নিট মুনাফা আসে।
অপর সাবসিডিয়ারি ডাচ-বাংলা পাওয়ার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের ৬৭ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে ওরিয়ন ফার্মার। এটি একটি কুইক রেন্টাল কোম্পানি, যার বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা হচ্ছে ১০০ মেগাওয়াট। ২০১৯-২০ হিসাব বছরে এ কেন্দ্রটিরও আয় ও নিট মুনাফা কমেছে। এ সময় কোম্পানিটির রেভিনিউ হয় ২৬৪ কোটি টাকা, যা আগের হিসাব বছরে ছিল ৩১৭ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ হিসাব বছরে এ কেন্দ্রটির নিট মুনাফা হয় ১৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, যা আগের হিসাব বছরে ছিল ১৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওরিয়ন ফার্মার পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ২৩৪ কোটি টাকা। এরমধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের মালিকানা ৩১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ৪০ দশমিক ৩১ শতাংশ, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ২৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ ও বিদেশিদের ১ দশমিক ১৬ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। গতকাল লেনদেন শেষে কোম্পানিটির শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ৫১ টাকায়।