মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ও বাবুখালী ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধন সনদ প্রদানে সরকার নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, জন্ম তারিখ ও বাবা-মায়ের নামের বানান ভুল সংশোধনে অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি’র তুলনায় চার থেকে ছয়গুণ টাকা আদায় করছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ও উদ্যোক্তা। গত মঙ্গলবার বালিদিয়া ও বাবুখালী ইউনিয়নের একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। ওই দুটি ছাড়াও উপজেলার বাকি ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন সেসব এলাকার বাসিন্দারা।
বালিদিয়া এলাকার একাধিক অভিভাবক দেশ রূপান্তরকে জানান, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ইউনিক আইডি ও প্রোফাইল তৈরির জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছে সরকার। এসব তথ্যের মধ্যে শিক্ষার্থী ও বাবা-মায়ের জন্মনিবন্ধন সনদও চাওয়া হয়েছে। কিছু শিক্ষার্থীর জন্মসনদ ও শিক্ষাগত সনদের তথ্যের মিল নেই। অনেকের বাবা-মায়ের নামের বানান ভুল হয়েছে। ফলে সংশোধিত জন্মসনদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ভিড় করছেন। আর এ সুযোগে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ও উদ্যোক্তা।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য ১০০ টাকা এবং জন্ম তারিখ ব্যতীত বাবার নাম, মায়ের নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন ফি ৫০ টাকা সরকারিভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সংশোধনের পর সনদের কপি বিনা ফিসে সরবরাহের কথাও বলা হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় কলেজছাত্র মেহেদী হাসান অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার বাবা-মা এবং আমার জন্মসনদ সংশোধনের জন্য বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছিলাম। তিনটি সংশোধনের জন্য তারা আমার কাছ থেকে ৬০০ টাকা এবং বাবা-মায়ের নাম ও জন্ম তারিখের দুই জায়গায় ভুল থাকায় আরও ২৫০ টাকা নিয়েছে।’
বাবুখালী এলাকার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মারুফা খাতুনের অভিযোগ, জন্মসনদে তার জন্ম তারিখ এবং বাবা-মায়ের নামের বানান ভুল হয়েছে। সংশোধনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গেলে সেখানে তাকে সরকারি ফি’র অতিরিক্ত চারগুণ টাকা গুনতে হয়েছে। নিখড়হাটা গ্রামের এক অভিভাবক আলি হাসান বলেন, ‘আমার ছেলেমেয়েদের স্কুলের জন্য আটটি জন্মসনদ সংশোধন করেছি বালিদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে। তারা আমার কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে মোট ২ হাজার ৪০০ টাকা নিয়েছে। টাকা না দেওয়া পর্যন্ত জন্মসনদ সংশোধনের কপি হাতে পাইনি। এ রকম টাকা লাগলে ছেলেমেয়েকে পড়ানো কষ্টকর হয়ে পড়বে।’
তবে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বালিদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘উদ্যোক্তা খরচ এবং সরকারি ফিসহ একবারই সামান্য টাকা নিচ্ছি। অন্যদিকে বিনা ফিসে সংশোধিত সনদ সরবরাহের কথা থাকলেও টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বাবুখালী ইউনিয়ন পরিষদ সচিব বিকাশ বিশ্বাস বলেন, ‘উদ্যোক্তাদের মাধ্যমেই সংশোধিত কপি দেওয়া হচ্ছে, তারা কিছু টাকা নিচ্ছে।’ এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামানন্দ পাল বলেন, ‘যদি কেউ সরকারিভাবে নির্ধারিত টাকার অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’