ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট প্রবল জলোচ্ছ্বাসে বেড়িবাঁধ ভেঙে খুলনার কয়রার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব গ্রামে চলছে খাদ্যের জন্য হাহাকার। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে দুর্গতদের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বিতরণ করা হয়েছে খাদ্যসামগ্রী। যার মধ্যে রয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ নুডলস ও নিম্নমানের চিঁড়া। আর এসব মেয়াদোত্তীর্ণ নুডলস ও চিঁড়া খেয়ে শিশু, বয়স্করা অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া খাদ্যসামগ্রী পেয়েছেন এমন একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে নদীর বাঁধ ভেঙে কয়রার ৪টি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রাম নোনাপানিতে প্লাবিত হয়। উপজেলায় ১২টি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে ৩৫ গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। আশ্রয়কেন্দ্রসহ উঁচু বেড়িবাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন ২ হাজারের বেশি মানুষ। প্লাবিত গ্রামগুলোতে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে চরম আকারে। এরইমধ্যে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে কিছু এলাকায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকেও দেওয়া হয় কিছু খাদ্যসামগ্রী। যার মধ্যে ছিল ১০ কেজি চাল, ২ কেজি চিঁড়া, ইফাদ কোম্পানির তৈরি বড় একটি নুডলসের প্যাকেট (ছোট ৮ প্যাকেটের সমন্বয়ে), চিনি এক কেজি, লবণ এক কেজি ও তেল এক লিটার। এ পর্যন্ত ৭৫০ জনকে এসব সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। ইফাদ কোম্পানির যে নুডলস শিশুদের জন্য দেওয়া হয় তার মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের মার্চ মাসে। আর যে চিঁড়া দেওয়া হয়েছে তা খাওয়ার অযোগ্য। এ নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ ত্রাণ গ্রহীতারা।
উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের গাতির ঘেরী এলাকার অনিশ মাহত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হওয়ার পর আমাদের খেয়ে না খেয়ে থাকতে হয়েছে। ৩/৪ দিন পর চেয়ারম্যান-মেম্বাররা যে খাদ্যসামগ্রী দিয়েছেন তা খেয়ে আমাদের শিশুরাসহ বয়স্করা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে দেখি নুডলস মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। আর চিঁড়া খাওয়ার যোগ্য নয় বলে ফেলে দিয়েছি।’
ত্রাণ হিসেবে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার বিতরণে ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারাও। কয়রা উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের মেম্বর নীলিমা চক্রবর্তী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘উপজেলার সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন। বিতরণের আগে তাদের দেখা উচিত ছিল খাদ্যসামগ্রীর মেয়াদ আছে কি না। এসব খাদ্য অজপাড়াগাঁয়ের মহিলারা রান্না করে তাদের শিশুদের খাওয়ালে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বাঁধ ভেঙে সবকিছু হারিয়ে আমরা ভিখারী হয়ে গেছি। এভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য দিয়ে না মেরে আমাদের কিছু খরচের টাকা দেন, আমরা এ দেশ ছেড়ে চলে যায়।’
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুদীপ বালা জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার খেলে শিশু ও বয়স্কদের পেটের পীড়া হতে পারে।
ত্রাণ হিসেবে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার বিতরণের বিষয়ে জানতে চাইলে কয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে প্যাকেট করে পাঠানো খাবার আমরা কেউ খুলে দেখিনি। বিতরণ করার পরে আমরা জানতে পেরেছি যে সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার ছিল। ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছি, যেন এ ধরনের খাবার পরে না দেওয়া হয়।’
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে খুলনার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজিজুর হকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।