আলোচনা সভায় ফখরুল

অর্থমন্ত্রী অর্থনীতি কতটুকু বোঝেন নিদর্শন খুঁজে পাইনি

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘অর্থমন্ত্রী ব্যবসায়ী মানুষ, তিনি ব্যবসাটা ভালো বোঝেন। অর্থনীতি কতটুকু বোঝেন তার নিদর্শন আমরা খুঁজে পাইনি।’ আসছে অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার একদিন আগে গতকাল বুধবার এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

পুরান ঢাকার জজকোর্টে ঢাকা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, ঢাকা বার ইউনিটের উদ্যোগে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) বাজেট দিতে যাচ্ছে সরকার। আজ (গতকাল বুধবার) অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল একটি পত্রিকায় ইন্টারভিউতে বলেছেন, ‘সব ধরনের মানুষকে মাথায় রেখে বাজেট করছেন’। কিন্তু তিনি একজন ব্যবসায়ী মানুষ, তিনি ব্যবসাটা ভালো বুঝেন। অর্থনীতি কতটুকু বোঝেন তার নিদর্শন আমরা খুঁজে পাইনি।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহায়তায় সরকার কিছুই করছে না। করোনার এই দুঃসময়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে হলে সবচেয়ে বেশি যা দরকার তা হচ্ছে ‘দিন আনে দিন খায়’ মানুষের জন্য সহায়তা। পত্র-পত্রিকায় বেরিয়েছে, করোনা মহামারীর ফলে দারিদ্র্যসীমার নিচে এসেছে আড়াই কোটি মানুষ। আগের দরিদ্র তিন  কোটি। তার মানে প্রায় ৬ কোটি মানুষ এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে। এই মানুষগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে তাদের কাছে টাকা পাঠাতে হবে। সরকার তা করছে না। শুধু তেল মাথায় তেল দিচ্ছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকার যে প্রণোদনা দিয়েছে সেই প্রণোদনা কীসের? মানুষকে তারা বোকা বানিয়েছে। ব্যাংক থেকে লোন নিতে হবে সবাইকে। ব্যাংক থেকে  লোন নিলে সরকারের কী দরকার? ব্যাংক থেকে নেবে। এটা প্রণোদনা হলো  কোত্থেকে? এটা প্রণোদনা নয়। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যাংকে শোধ করতে হবে। প্রণোদনা তাকেই বলে সরকার দুঃসময়ে আপনাকে যে আর্থিক সাহায্যটা করছে সেটা  ফেরত নেবে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বড় বড় দালাল তৈরি করছেন আর বলছেন উন্নয়ন, আর মনগড়া প্রবৃদ্ধির হার দিচ্ছেন আর বলছেন যে, উন্নয়ন। উন্নয়ন সেটা নয়। উন্নয়ন হচ্ছে জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়, সে যেন ভালো খেতে পায়, বাচ্চাদের লেখাপড়া করাতে পারে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঠিক থাকে সেটাকে বলে উন্নয়ন। সরকার এমন উন্নয়ন করেছে যে, হাসপাতালে বেড নেই। একটা হাসপাতাল বানিয়েছেন কভিডের সময়ে ওইটা রাতের মধ্যে উধাও হয়ে গেল, হাসপাতাল নেই।’

বার ইউনিটের সভাপতি এবং বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুম আহমেদ তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক ফারুকীর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোন্দকার মো. হযরত আলী প্রমুখ।

 যে কোনো সময়ে ভোটারবিহীন সরকারের যবনিকাপাত ঘটবে : গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, ‘সরকার দমন-নিপীড়নের মাধ্যমে বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। যে কোনো মুহূর্তে ভোটারবিহীন সরকারের ভয়াবহ দুঃশাসনের যবনিকাপাত ঘটবে।’

গত ৩১ মে জিয়ার ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শেরপুরে ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভা থেকে ছাত্রদলের নেতাদের গ্রেপ্তার, গত মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ছাত্রদলের কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে  স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত তাৎক্ষণিক শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল করলে তাতে পুলিশ অতর্কিত হামলা, বেধড়ক লাঠিচার্জ ও নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এই বিবৃতি দেন বিএনপি মহাসচিব।

বিকেলে অন্য একটি ভার্চুয়াল সভায় মির্জা ফখরুল দলের নেতাকর্মীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘অতীতে প্রতিটি বিপর্যয়ের পর বিএনপি ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আগামীতেও একইভাবে ঘুরে দাঁড়াবে।’