২০২১-২০২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার গত বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বাড়লেও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ বেড়েছে ২.৭১ শতাংশ। গত বছর এ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ ছিল ২৬ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা, এবার ২৭ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব বক্তৃতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে এ বরাদ্দের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়, দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। পাহাড়ি দুর্গম কিছু এলাকা ও বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল বাদে দেশের প্রায় সব স্থানেই পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ সরবরাহের লাইন। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ায় এবারের প্রস্তাবিত বাজেট বরাদ্দে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং ক্ষমতা বৃদ্ধিতে। অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ১৪ হাজার ১১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। এছাড়া ২ হাজার ৯৬১ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। ৬৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিকল্পনাধীন রয়েছে। সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে বিদ্যুতের সিস্টেমলস ১৪.৩৩ থেকে কমে ৮.৭৩ শতাংশ হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সঞ্চালন লাইন ২৮ হাজার কিলোমিটার এবং বিতরণ লাইন ৬ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটারে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে জ্বালানি খাতের বাজেটে এবার প্রধানভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে গ্যাসের পুরনো সঞ্চালন ব্যবস্থার ক্ষমতা বৃদ্ধি ও নতুন সঞ্চালন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে। এরমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলের নীলফামারীর সৈয়দপুর পর্যন্ত গ্যাসের পাইপলাইন নির্মাণ করবে সরকার। এতে প্রায় সাড়ে ১১শ কোটি টাকা খরচ হবে। বগুড়া-রংপুর হয়ে এই পাইপলাইনটি সৈয়দপুর পর্যন্ত যাবে।