শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ম ভঙ্গ করে ১১ বছর ধরে সভাপতি

পটুয়াখালীর বাউফলে এক সহকারী স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত নিয়ম ভঙ্গ করে অন্য একটি স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ছোট ডালিমা এলাকার ‘আবদুস ছালাম মৃধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ নামে ওই স্কুলটির প্রধান শিক্ষক, একাধিক সহকারী শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভাষ্য, স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে গত ১১ বছর ধরে স্কুলটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন আবদুস ছালাম মৃধা নামে ওই শিক্ষক। এছাড়াও স্কুলের বিভিন্ন পদে নিয়োগ প্রদানে স্বজনপ্রীতি, স্কুলের তহবিল থেকে টাকা উত্তোলনের পর আত্মসাৎ ও আদালতের আদেশ অমান্য করেও বহাল তবিয়তে নিজের অবস্থান ধরে রাখার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবদুস ছালাম মৃধা পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক। তার বাড়ি উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ছোট ডালিমা গ্রামে। ২০১২ সাল থেকে এখন অবধি তার নিজ এলাকার ‘আবদুস ছালাম মৃধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের’ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বরত আছেন তিনি।

আবদুস ছালাম মৃধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল আহসান জামিল অভিযোগ করে বলেন, ‘সভাপতি আবদুস ছালামের এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় গত ২০১১ সালের ১৮ মে এক চিঠির মাধ্যমে আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে ওই চিঠিতে বরখাস্তের কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি আমাকে কোনো শোকজ নোটিস পর্যন্তও দেওয়া হয়নি। পরে তার আপন ভাইয়ের স্ত্রী মোসা. মরিয়ম বেগমকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন তিনি। এরপর মরিয়ম ও তার নিজের যৌথ স্বাক্ষরে পাঁচটি চেকের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের সাধারণ তহবিল থেকে ১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলনের পর আত্মসাৎ করেন ছালাম মৃধা। এমনকি সভাপতি ছালাম তার ইচ্ছেমতো প্রধান শিক্ষক মরিয়মকে দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করান।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, ‘পাঁচ-ছয় বছর আগে গোপনে প্রধান শিক্ষকের অবর্তমানে সভাপতি তার ভাইয়ের স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেন। কিন্তু সহকারী শিক্ষকের পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে এক অভিভাবক বলেন, ‘বিদ্যালয়টিতে সরকারি কোনো নিয়ম চলে না। সবকিছু চলে সভাপতির ইচ্ছেমতো। বর্তমানে বিদ্যালয়টি তাদের পারিবারিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক, ধর্মীয় ও বিজ্ঞানের শিক্ষক ছাড়া যারা চাকরি করছেন তাদের মধ্যে সভাপতির আপন ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী, চাচাতো ভাই ও তার (চাচাতো ভাই) স্ত্রীসহ সবাই আত্মীয়।’

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবদুস ছালাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘নিয়ম মেনেই টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। আর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।’ অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তিনি শিক্ষক শ্রেণির নন। একজন সরকারি কর্মকর্তা। তাই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হতে বাধা নেই।

বাউফল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক বলেন, ‘কোনো সহকারী শিক্ষকের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, ‘আদালতের আদেশের কাগজ পেয়ে প্রধান শিক্ষককে তার দাপ্তরিক কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য সভাপতিকে অনুরোধ করেছি। কিন্তু তিনি মানছেন না।’