ইউরো’র অন্যতম সফল দল স্পেনের এবার গ্রুপ সঙ্গী পোল্যান্ড, সুইডেন ও স্লোভাকিয়া। জার্মানির সমান সর্বোচ্চ ৩ বার চ্যাম্পিয়ন স্পেন। রানার্সআপ হয়েছে একবার। দল, বিশ্ব র্যাংকিং (৬) সব বিবেচনাতেও তারাই এগিয়ে ‘ই’ গ্রুপে। সুইডেন একবার খেলেছে ইউরোর সেমিফাইনাল। গত ইউরো-তে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল পোল্যান্ড, সেটিই এখন পর্যন্ত তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য এ টুর্নামেন্টে। ১৯৭৬-র চ্যাম্পিয়ন চেকোস্লোভাকিয়া ভেঙে ১৯৯২-এ জন্ম নেওয়া স্লোভাকিয়া স্বতন্ত্র দেশ হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো খেলছে মূলপর্বে।
বাছাইপর্বে স্পেন এবার অপরাজিত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ১০ ম্যাচের আটটি জিতেছে। ড্র করেছে দুটি। ৩১ গোলের বিপরীতে গোল হজম করেছে ৫টি। সর্বোচ্চ চারটি করে গোল করেছিলেন আলভারো মোরাতা, রদ্রিগো ও সার্জিও রামোস। কিন্তু ‘ইনজুরিতে ভুগতে থাকা ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৮০ ম্যাচের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার রামোসকে ছাড়াই ইউরো খেলতে হবে এবার স্পেনকে। দলে রিয়াল মাদ্রিদের কোনো খেলোয়াড় না থাকলেও প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের অভাব নেই। বিশেষ নজর থাকবে জেরার্ড মোরেনোর দিকে। ভিয়ারিয়ালের হয়ে লা লিগায় ২৩ গোল করা স্ট্রাইকারের ৭ গোলের অবদান ইউরোপা লিগ জয়ে।
জার্মানি, সুইজারল্যান্ডকে পেছনে ফেলে নেশন্স লিগের গ্রুপ সেরা হয়েছে লা রোজারা। অক্টোবরের সেমিফাইনাল খেলবে ইতালির সঙ্গে। তবে ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে গ্রিসের সঙ্গে ড্র করে পয়েন্ট হারিয়েছে স্প্যানিশরা। গেল শুক্রবার পর্তুগালের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করে স্পেন। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই তারা খেলবে সেভিয়াতে।
২০০৮ ইউরো থেকে নিয়মিত মূলপর্বে খেলছে পোল্যান্ড। এবারের বাছাইয়ে ১০ ম্যাচে আটটিতে জিতেছে, ড্র করেছে দুটি। তার তাদের একটি। তবে তাদের সাম্প্রতিক পারফরমেন্স তেমন ভালো না। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে হাঙ্গেরির সঙ্গে ড্র (৩-৩) করলেও হারে ইংল্যান্ডের কাছে। গত মঙ্গলবার রাশিয়ার সঙ্গে প্রীতি ম্যাচও ১-১ গোলে ড্র করে তারা। তবু এই গ্রুপে স্পেনের পরই ধরা হচ্ছে পোল্যান্ডকেই। দলটির মূল ভরসার নাম রবার্ট লেভানডোস্কি। সদ্য শেষ হওয়া বুন্দেসলিগায় এক মৌসুমে ৪১ গোল করে কিংবদন্তি জার্ড মুলারকে ছাড়িয়ে যান ২০২০ ফিফা দ্য বেস্ট। ইউরোর বাছাইপর্বেও দলের সর্বোচ্চ (৬টি) গোলদাতা ছিলেন তিনি।
ফিফা র্যাংকিংয়ের ১৭ নম্বরে থাকা সুইডেন ১৯৯২-তে প্রথমবার ইউরোর মূল পর্বে সুযোগ পায়। খেলতে নেমেই সেমিফাইনালে ওঠে তারা। এরপর ২০০৪-এ কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল সুইডেন। কিন্তু পরের তিন আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ে সুইডিশরা। বাছাইপর্বে ১০ ম্যাচের ছয়টি জিতেছে সুইডেন। ড্র করে তিনটি, হার একটি। ৩৯ বছরের জøাতান ইব্রাহিমোভিচ অবসর ভেঙে ফিরেছিলেন জাতীয় দলে। কিন্তু ‘হাঁটুর ইনজুরির কারণে শেষ পর্যন্ত স্কোয়াডে জায়গা রাখতে পারেননি। ইব্রা না থাকায় সুইডেনের অন্যতম ভরসা লাইপজিগের মিডফিল্ডার এমিল ফোরসবার্গ। এছাড়া সাবেক তারকা হেনরিক লারসন পুত্র সেবাস্টিয়ান লারসনও আছেন তাকে সঙ্গ দিতে।
গত ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবারের মতো মূলপর্বে খেলেছিল ১৯৯৩ থেকে স্বতন্ত্র দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলে আসা স্লোভাকিয়া। ২০১৬ ইউরোতে তারা উঠেছিল শেষ ষোলোতে। এবার প্লে-অফ খেলে ইউরো নিশ্চিত করে স্লোভাকিয়া। ১৯৭৪-এর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন পশ্চিম জার্মানিকে ১৯৭৬-র ইউরো ফাইনালে হারিয়েছিল যে চেকোvভাকিয়াকে সেই দলের ৮ জন ছিল স্লোভাকিয়ার।