কার্টুনিস্ট আহমেদ কবীর কিশোরকে ‘নির্যাতনের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি’ বলে আদালতকে জানিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের তিন চিকিৎসকের মেডিকেল বোর্ড। মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ বিষয়ে ‘চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হতে এবং পরবর্তী মূল্যায়নের জন্য’ আরও তদন্ত প্রয়োজন আছে।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে মেডিকেল রিপোর্ট জমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি তিনি।
গত ৪ মার্চ কিশোর মুক্তি পেয়ে ১০ মার্চ ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে তাকে ‘নির্যাতন’ করা হয়েছে বলে ২০১৩ সালের নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনে এ মামলার আবেদন করেন। তবে ওই আবেদনে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এরপর আদালতের নির্দেশে ১৬ মার্চ কিশোরের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে ঢামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বোর্ডের সদস্যরা হলেন ঢামেকের নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শেখ নুরুল ফাত্তাহ রুমি (প্রধান), মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক হাফিজ সরদার, অর্থোপেডিক এবং টমাটলোজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফখরুল আমিন খান।
এ মেডিকেল বোর্ড কিশোরের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ২০ মার্চ আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রতিবেদনটি জমা দেয়। মামলার নির্ধারিত তারিখ ১৪ এপ্রিল করোনার কারণে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তা উপস্থাপন করা হয়নি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, নিয়মিত আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হবে। এরপর আদালত এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশ দেবে। এদিকে আদালত সূত্রে জানা যায়, মেডিকেল রিপোর্ট দেওয়া হলেও পিবিআই তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়নি।
কিশোরকে ২০২০ সালের ২ মে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় ‘অজ্ঞাত’ ব্যক্তিরা। পরে ৫ মে র্যাব-৩, সিপিসি-১-এর ওয়ারেন্ট অফিসার মো. আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে ১১ জনের নামে রমনা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন। এতে অজ্ঞাত আরও পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করা হয়।
এ মামলায় গত ১৩ জানুয়ারি কার্টুনিস্ট আহমেদ কবীর কিশোর, রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য দিদারুল ভূঁইয়া ও লেখক মুশতাক আহমেদকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে রমনা থানা পুলিশ। যেখানে জুলকারনাইন খান ওরফে সামিসহ অন্য আটজনকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়। অব্যাহতির সুপারিশপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মিনহাজ মান্নান, জার্মানপ্রবাসী ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন, নেত্র নিউজের সম্পাদক ও সুইডেনপ্রবাসী তাসনিম খলিল, হাঙ্গেরিপ্রবাসী জুলকারনাইন শায়ের খান ওরফে সামি, আশিক ইমরান, স্বপন ওয়াহিদ, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাংবাদিক সাহেদ আলম ও ফিলিপ শুমাখার।
এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেন মামলাটি অধিকতর তদন্তে সিটিসিকে নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা ‘আই এম বাংলাদেশি’ নামে ফেইসবুক পেজে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুণœ করতে বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে অপপ্রচার বা গুজবসহ বিভিন্ন ধরনের পোস্ট দিয়েছে। যা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটায়। এ মামলায় কিশোর ১০ মাস কারাভোগের পর হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে চলতি বছর ৪ মার্চ মুক্তি পান। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার লেখক মুশতাক আহমেদ চলতি বছর ২৬ ফেব্রুয়ারি কাশিমপুর কারাগারে মারা যান।