দেশি বিজ্ঞাপনে বিদেশি শিল্পী থাকলেই ফি

দেশীয় চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপনে বিদেশি অভিনয় শিল্পী, কলাকুশলী, সংগীতশিল্পী অংশগ্রহণ করলে সরকারকে ২ লাখ টাকা ফি দিতে হবে। এ বিষয়ে নীতিমালা (২০২১ সংশোধিত) করেছে সরকার। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নবনির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত ১ জুন নীতিমালাটি প্রকাশ করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। এতে ১২টি পয়েন্টে সিনেমা ও বিজ্ঞাপনে বিদেশি কোনো শিল্পীকে ব্যবহারের নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। বিদেশি শিল্পীদের দিয়ে বিজ্ঞাপন নির্মাণ করলে এবং তা দেশের টেলিভিশনে প্রচার করা হলে সরকারকে নির্ধারিত হারে ‘ফি’ দিতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নীতিমালায় সংযোজন করেছি, বিদেশি শিল্পী দিয়ে বিজ্ঞাপন তৈরি করতে পারবে, তবে ফি দিতে হবে। দেশীয় শিল্পী ও শিল্প রক্ষায় এটি করা হয়েছে।’

নীতিমালার তিন নম্বর পয়েন্টে বলা হয়েছে, বিদেশি শিল্পীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন নির্মাণের ক্ষেত্রে সেই প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে প্রতি বিদেশি শিল্পীর জন্য ২ লাখ টাকা ফি (ভ্যাট ও আয়কর ছাড়া) এবং নির্মিত বিজ্ঞাপন প্রচারের সময় টিভি চ্যানেল কর্র্তৃক এককালীন প্রতি বিজ্ঞাপনের জন্য ২০ (বিশ) হাজার টাকা ফি হিসেবে সরকারকে দিতে হবে।

চার নম্বর পয়েন্টে বলা হয়েছে, দেশের সিনেমার শ্যুটিং বিদেশে করতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হবে। অনুমোদন প্রদানের ক্ষেত্রে একটি কমিটি যাচাই-বাছাই করে সুপারিশ প্রদান করবে। কমিটি সুপারিশ প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চলচ্চিত্রের গল্প ও চিত্রনাট্য অনুযায়ী বিদেশে শ্যুটিংয়ের প্রয়োজন আছে কি না, খরচের বিবরণী যথাযথ কি না ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করবে। সেই কমিটির সভাপতি হিসেবে থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও চলচ্চিত্র)। সদস্য হিসেবে থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (চলচ্চিত্র), জননিরাপত্তা বিভাগের একজন উপযুক্ত প্রতিনিধি, বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সভাপতি। কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (চলচ্চিত্র-১)।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, বিনা পারিশ্রমিকে বিদেশি অভিনয় শিল্পী, কলাকুশলী, সংগীতজ্ঞ, সংগীতশিল্পী ও বিজ্ঞাপনে বিদেশি শিল্পীদের অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ করা যাবে না। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে চিত্রনাট্য পেশ করার সময় বিদেশিদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের প্রয়োজনীয় তথ্যাদি জমা দিতে হবে। বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। যদি বিদেশি শিল্পীদের কার্যক্রমে নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ধর্মের সংবেদনশীলতা নষ্ট করে, নৈতিকতাহীন-অশ্লীলতা, বর্বরতা, অপরাধকে সমর্থন করা হয় এবং নকল গান-সুর ব্যবহার করলে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দিতে পারবে। নীতিমালা দ্রুতই কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।

করোনা মহামারীর মধ্যে দেশের চলচ্চিত্র শিল্প যে সংকটে পড়েছে, সেখান থেকে দুই বছরের মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানো যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নের জন্য অনেকগুলো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সিনেমা হল পুনরায় চালু করা, আধুনিকায়ন, নতুন সিনেমা হল স্থাপনের জন্য সরকার এক হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করেছে। আশা করছি ২ বছরের মাথায় চলচ্চিত্র শিল্প পরিপূর্ণভাবে ঘুরে দাড়াবে।’

গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটির অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে ওই প্রকল্পের দরপত্র ডাকা হয়েছে। সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার প্রজেক্ট। সেখানে বেশ কয়েকটি ফ্লোর থাকবে। আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে।’

চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যার কথা বৈঠকে তুলে ধরেন। অন্যদের মধ্যে তথ্য সচিব মো. মকবুল হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।