শনাক্ত হার আরও বাড়ল, ৪১ দিনে সর্বোচ্চ

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবারও বাড়তির দিকে রয়েছে। গত শনিবারই শনাক্ত হার বেড়ে ১১ শতাংশ ছাড়িয়েছে। গতকাল সোমবার এই হার আরও বেড়ে সাড়ে ১১ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকালের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১১ দশমিক ৪৭ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা গত ৪১ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বশেষ গত ২৭ এপ্রিল এরচেয়ে বেশি হারে রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এদিন ১৭ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষায় ১ হাজার ৯৭০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এক দিনে শনাক্তের এই সংখ্যা গত ৫ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং গত দেড় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। গত ২ জুন প্রায় দেড় মাসে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯৮৮ রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

গত মার্চ থেকে দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়। টানা প্রায় দেড় মাস ধরে এই ঢেউ বাড়তে বাড়তে সর্বোচ্চ মাত্রায় ওঠে। দৈনিক শনাক্ত সাড়ে সাত হাজার ছাড়ানোর পাশাপাশি শনাক্ত হার ২৩ শতাংশের ওপরে ওঠে। এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে ঢেউ কমতে শুরু করে। টানা এক মাস কমতে কমতে মে’র মাঝামাঝিতে দৈনিক রোগী শনাক্ত হাজারের নিচে নামে এবং শনাক্ত হার সর্বনি¤œ ৬ শতাংশে নামে। কিন্তু এরপর সংক্রমণ আবার ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে। দৈনিক রোগী শনাক্ত বেড়ে ২ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছায় এবং শনাক্ত হার ১১ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

এদিকে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। এদিন ২৪ ঘণ্টায় ৩০ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। এক দিনে মৃত্যুর এই সংখ্যা গত চার দিনের মধ্যে সর্বনি¤œ। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো গতকালও সবচেয়ে বেশি রোগী মারা গেছেন চট্টগ্রাম বিভাগে। এদিন বিভাগটিতে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর গতকাল ছিল ৪৫৬তম দিন। অধিদপ্তরের এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ৫১০টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৪টি জিন-এক্সপার্ট, ৩৩৪টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ও নতুন একটিসহ ১৩২টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (রবিবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৭ হাজার ৬৬৬ জনের। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয়েছে ১৭ হাজার ১৬৯ জনের, যার মধ্যে ৫৮২টি নমুনা ছিল বিদেশ গমনেচ্ছুদের। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ৬০ লাখ ৬৭ হাজার ৪২টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮ লাখ ১২ হাজার ৯৬০ জন। মোট পরীক্ষার বিপরীতে গড়ে ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ লোকের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১২ হাজার ৮৬৯ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৯১৮ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৫৩ হাজার ২৪০ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫৮ ও সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৯ ও নারী ১১ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৯ হাজার ২৭৫ পুরুষ ও ৩ হাজার ৫৯৪ নারী মৃত্যুবরণ করেছেন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭২ দশমিক ০৭ ও নারী ২৭ দশমিক ৯৩ ভাগ। এদিন সর্বোচ্চ ১১ জন মারা গেছেন চট্টগ্রাম বিভাগে। বাকিদের মধ্যে ঢাকায় ৭, সিলেটে ৪, খুলনায় ৩, রাজশাহী ও ময়মনসিংহে ২ জন করে এবং রংপুরে ১ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে করোনায় এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭ হাজার ২৩৬ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২ হাজার ৪৬৮, খুলনায় ৮১৯, রাজশাহীতে ৭২৭, রংপুরে ৪৮৮, সিলেটে ৪৭৭, বরিশালে ৩৮৯ এবং ময়মনসিংহে সর্বনি¤œ ২৬৫ জন মারা গেছেন। বয়স অনুযায়ী সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ২২, ৫১-৬০ বছরের ২, ৪১-৫০ বছরের ৩ এবং ৩১-৪০ বছরের ছিলেন ৩ জন। এদিন ২৭ জন হাসপাতালে এবং ৩ জন বাসায় মারা গেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯২৬ রোগীকে আইসোলেশনে এবং ১ হাজার ৭৫৩ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ২১ হাজার ২০৫ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪৪ হাজার ৫১৩ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোয় ১১ হাজার ৯১৬টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ৬৪৯টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ১ হাজার ১২৫টি আইসিইউর মধ্যে এদিন রোগী ভর্তি ছিল ৩৩৮টিতে।