আবাসন খাতের ব্যবসায় অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের বিদ্যমান নীতি সহায়তার সুফল মিলছে বলে জানিয়েছেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) নেতারা। আসন্ন অর্থবছরেও এই নীতি সহায়তা অব্যাহত রাখায় কভিড-১৯ মহামারীর মধ্যেও স্বস্তিতে ব্যবসার আশা রাখেন এ খাতের উদ্যোক্তারা।
তারা বলছেন, অপ্রদর্শিত অর্থ আবাসন খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কোনো প্রশ্ন তুলছে না। ফ্ল্যাট এবং অ্যাপার্টমেন্ট কেনার ক্ষেত্রে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের এই সুবিধা অব্যাহত রাখায় এ খাতে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
সরকারি হিসাব মতে, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা অর্থনীতির মূল ধারায় এসেছে, যেখান থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। যা কভিড পরিস্থিতিতে অর্থনীতির প্রাণচাঞ্চল্য ফেরাতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন (কাজল)।
রিহ্যাব সভাপতি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এই নীতি সহায়তা অব্যাহত থাকলে আরও বহুগুণ টাকা অর্থনীতির মূলধারায় যোগ হবে। যা প্রকারান্তে রাজস্ব আয় বাড়াতে সহায়ক হবে।’
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এই প্রস্তাবনায় আবাসন খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী বিশেষ করে রড, সিমেন্ট, টাইলসসহ বিভিন্ন কাঁচামালে বিশেষ শুল্ক ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এই প্রস্তাবনাকে স্বাগত জানিয়ে রিহ্যাব বলছে, আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে করপোরেট কর ও বার্ষিক টার্নওভার কর কমানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এটা খুবই ইতিবাচক। এ বাজেট যেমনটা ব্যবসাবান্ধব তেমনি বাস্তবোচিত এবং জনবান্ধব।
রিহ্যাব সভাপতি বলেন, দেশবাসী যাতে ভাড়ার টাকায় মাথা গোঁজার একটা ঠিকানা খুঁজে পায় সেজন্য স্বল্প সুদের দীর্ঘমেয়াদি একটি তহবিল গঠন আমাদের প্রাণের দাবি। অন্যান্য দেশের তুলনায় এই খাতে নিবন্ধন ব্যয় আরও কমানোর সুযোগ রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে কাজ যে হচ্ছে না তা নয়। বর্তমানে ঋণের সুদহার ৯ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এ কারণে অনেকেই ঋণ নিয়ে আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারছে। তবুও সেটা আশানুরূপ হারে পাচ্ছে তা বলা যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। সব মিলিয়ে সমগ্র নির্মাণ খাতে প্রায় ৫০ লাখ জনশক্তি জড়িত। রিয়েল এস্টেট খাতকে ঘিরে গড়ে ওঠা লিংকেজ শিল্প আমাদের অর্থনীতিকে ঘূর্ণায়মান রেখেছে। প্রতি বছর বিভিন্ন খাত-উপখাত মিলে এই রিয়েল এস্টেট সেক্টর থেকে সরকারের কোষাগারে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জমা হয় প্রায় এক লাখ কোটি টাকার রাজস্ব।’
করোনার মতো ভয়াবহ বৈশ্বিক মহামারীর মধ্যে জীবন ও জীবিকার বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিয়ে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার সময় উপযোগী বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমসহ বাজেট প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে রিহ্যাব বলছে, এই বাজেট বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দেশ তার লক্ষ্যে অনেকদূর এগিয়ে যাবে।