সীমান্তে সংক্রমণে উল্লম্ফন লকডাউন অকার্যকর

ঈদের পর থেকে দেশে বাড়তে থাকা করোনা সংক্রমণ এবার বাড়াচ্ছে আতঙ্কও। সারা বিশ্বের যেখানে সংক্রমণ ও মৃত্যুর নিম্নমুখী প্রবণতা সেখানে দেশের সীমান্তবর্তী জেলাসহ উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে হু হু করে। বিশেষ করে করোনার ভারতীয় ধরনের (ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট) সামাজিক সংক্রমণের (কমিউনিটি ট্রান্সমিশন) প্রমাণ পাওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে বিশ্বে যেখানে শনাক্ত ও মৃত্যু যথাক্রমে ১৫ ও ১১ শতাংশ হারে কমেছে সেখানে বাংলাদেশে শনাক্ত বেড়েছে ২৪ শতাংশ আর মৃত্যু ১৫ শতাংশের বেশি। শুধু শনাক্তের সংখ্যাই না, সীমান্ত জেলাগুলোতে পরীক্ষা অনুপাতে বাড়ছে শনাক্তের হারও। দুটি জেলা সম্পূর্ণ ও সাতটি জেলায় এলাকাভিত্তিক লকডাউন দেওয়া হয়েছে। দুটি জেলায় আরোপ করা হয়েছে বিশেষ বিধিনিষেধ। কিন্তু সংক্রমণ না কমে উল্টো সপ্তাহ ব্যবধানে কয়েকগুণ বেড়ে কোনো কোনো এলাকায় সংক্রমণ হার পেরিয়ে গেছে ৬০ শতাংশ।

আশঙ্কাজনক হারে সংক্রমণ বাড়ছে দেশের মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি জেলায়ও। জেলাগুলোর করোনার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ। অনেক হাসপাতালেই শয্যার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকছেন। যাদের অবস্থা জটিল তাদের নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। অনেক রোগী চাহিদা অনুযায়ী নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সেবা পাচ্ছেন না। সংকট আছে অক্সিজেনেরও। কোনো কোনো জেলার চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি সামলাতে তারা তিনটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন। প্রথমত, লকডাউনেও মসজিদে লোকসমাগম কমানো যচ্ছে না। দ্বিতীয়ত, মৌসুম হওয়ায় আম ব্যবসায়ীদের লকডাউন মানানো যাচ্ছে না। তৃতীয়ত, সীমান্তে অবৈধ যাতায়াত বন্ধ করা যাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থার চেয়ে সংক্রমণ প্রতিরোধেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব সর্বোচ্চ সংখ্যক পরীক্ষা করতে হবে ওইসব এলাকায়। অবশ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, সংক্রমণ যেন দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য ওইসব এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

দেশ রূপান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যে বিস্তারিত-

রাজশাহীতে শনাক্ত হার ৪৯ শতাংশ, রামেকে আরও ৮ মৃত্যু :

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন করোনা শনাক্ত হওয়ার পর মারা যান। এদের দুজনের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবং একজন রাজশাহীর। বাকিরা মারা যান নমুনা পরীক্ষার আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়াদের মধ্যে রাজশাহীর তিনজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন ও পাবনার একজন।

হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৫৭ জনের মধ্যে ১২৫ জনের করোনা পজিটিভ রয়েছে। পরীক্ষা অনুপাতে এই হার ৪৯ শতাংশের বেশি।

ডা. সাইফুল জানান, গত এক সপ্তাহে (১ জুন সকাল ৬টা থেকে ৮ জুন সকাল ৬টা পর্যন্ত) এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ৭২ জন। এর মধ্যে ৪৫ জনই মারা গেছেন করোনা শনাক্ত হওয়ার পর।

এদিকে রাজশাহীতে সোমবার বিকেল থেকে লকডাউনে বাড়তি কঠোরতা আরোপ করেছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত মার্কেট ও বিপণি বিতান বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে শহরে যানবাহন চলাচলও বন্ধ করা হয়েছে। নির্দেশনা কার্যকর করতে বিকেল থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন বাড়তি তৎপরতাও দেখাচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শনাক্ত হার ৫৯ শতাংশ:

গত সোমবার জেলায় ১৭১ জনের করোনা পরীক্ষা করে ১০১ জনের ফল পজিটিভ এসেছে। এই হিসেবে জেলায় শনাক্তের হার ৫৯ শতাংশ। তবে জেলায় করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে দ্বিতীয় দফায় চলমান লকডাউন শিথিল করে ১১ দফা বিধিনিষেধ আরোপের পর প্রথম চাঁপাইনবাবগঞ্জজুড়ে খুলেছে সব দোকানপাট। শহর ও শহরতলিতে স্বাভাবিক চলাচল করেছে রিকশা ও অটো রিকশা।

নতুন বিধিনিষেধ আরোপের ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-নওগাঁ রুটে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে জেলার মধ্যে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চলাচল করছে।

বিধিনিষেধ আরোপ বাস্তবায়ন করতে জেলাজুড়ে কাজ করেছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে ১২টি মোবাইল কোর্ট।

খুলনায় শনাক্ত হার ৩৫ শতাংশ, আরও ৩ মৃত্যু :

খুলনায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে খুলনায় করোনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

অপরদিকে জেলায় একদিনে সর্বোচ্চ করোনা শনাক্ত হয়েছে। সোমবার রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজের আরটি পিসিআর মেশিনে ৩৭৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৩১ জনের শরীরে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে। যা মোট নমুনা পরীক্ষার ৩৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

খুলনা করোনা হাসপাতালের ফোকালপারসন ও খুমেক হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. সুহাসরঞ্জন হালদার এসব তথ্য জানান।

এদিকে খুলনার রূপসা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ১৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তরা হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।

যশোরের শনাক্ত হার ৪২ শতাংশ, দুই পৌরসভায় বিধিনিষেধ :

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় যশোরের সদর ও অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়ছে। মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় জেলা প্রশাসকের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটির মুখপাত্র অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. সায়েমুজ্জামান জানান, সভায় সবাইকে মাস্ক ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে, বাজারে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের ওপর জোর দেওয়া হয়।

এদিকে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, জেলায় মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে করোনা শনাক্তের হার বাড়তে শুরু করে। জুন মাসের শুরুতেও বহাল ছিল ঊর্ধ্বমুখী ভাব। গত ৩ জুন শনাক্তের হার ছিল ২৫ শতাংশ, ৪ জুন ২৩ শতাংশ, ৫ জুন ২০ শতাংশ, ৬ জুন বেড়ে ২৩ শতাংশে, পরদিন ৭ জুন তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ২৯ শতাংশে। বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ৪২ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় এ জেলায় ২৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে নতুন করে ১২৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট মারা গেছেন ৮৩ জন।

মোংলায় শনাক্তের হার ৬১ শতাংশ :

মোংলায় বেড়েই চলেছে করোনা সংক্রমণ। গতকাল মঙ্গলবার ৪৯ জনের মধ্যে ৩০ জনের করোনা পজেটিভ এসেছে। এই হিসেবে গতকাল সেখানে শনাক্তের হার পৌঁছেছে ৬১ শতাংশে। সোমবার এর হার ছিল ৫৪ শতাংশ আর রবিবার ছিল ৫৩ ।

বাগেরহাট জেলা সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, বর্তমানে মোংলায় করোনা শনাক্তের হার শতকরা ৬০ শতাংশের বেশি। অবশ্য আগে এই হার ৭১ ভাগ পর্যন্তও ছিল। আশা করছি চলতি এ সপ্তাহের মধ্যে শনাক্তের হার আরও কমে আসবে। এদিকে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের ১০ম দিনেও পৌর শহরের প্রবেশ মুখগুলোতে লোকসমাগম ও যান চলাচল ঠেকাতে পুলিশকে হিমশিম খেতে দেখা গেছে। পৌর শহরে ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্ট, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও আনসারের টহল থাকায় শহর এলাকায় বিধিনিষেধ কিছু মানা হলেও মূলত তা মানা হচ্ছে না উপজেলার বাকি ৬টি ইউনিয়নে।

বিধিনিষেধের মধ্যেও স্বাভাবিক রয়েছে মোংলা বন্দরের সব কার্যক্রম। পাশাপাশি বন্দর সংশ্লিষ্ট কাস্টমসসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে।

সাতক্ষীরায় শনাক্ত হার ৫৫ শতাংশ, আরও ৩ জনের মৃত্যু :

সোমবার সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে ১৮৭ জনের পরীক্ষা করে ১০৩ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। এই হিসেবে শনাক্ত হার প্রায় ৫৫ শতাংশ। সোমবারের নতুন রোগী নিয়ে জেলায় মোট করোনা পজিটিভের সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ৯৮৯ জন। সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, দেশের ৬২তম জেলা হিসেবে ২৬ এপ্রিল ২০২০ তারিখে করোনা শনাক্তের পর সাতক্ষীরা এখন করোনার হটস্পট হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে সাতক্ষীরা জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪৮ জন। করোনা উপসর্গে মারা গেছেন আরও ২৩১ জন।

এদিকে শহরের ন্যাশনাল হাসপাতাল, সংগ্রাম হাসপাতাল, ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতাল ও বুশরা হাসপাতাল করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি করা বন্ধ করে দিয়েছে।

সিভিল সার্জন জানান, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২০ শয্যার করোনা ইউনিট রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে আট শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এবং আট শয্যার হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ), কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা (এইচএফএনসি)। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ৪০ শয্যার করোনা ইউনিটে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে। তবে কোনো হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা নেই। নেই ভেন্টিলেশন ব্যবস্থাও।

হিলিতে শনাক্ত হার ৩৩ শতাংশ :

সীমান্তবর্তী এলাকা দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে দিন দিন বেড়েই চলেছে করোনা সংক্রমণের হার। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদিকে প্রতিদিন করোনা সংক্রমণের হার বাড়লেও মানুষজনের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানা ও মাস্ক পরিধান করে চলাফেরা করার হার কমছে। মঙ্গলবার সকালে দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে এই তথ্য সাংবাদিকদের জানানো হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় দিনাজপুর জেলায় ১৪১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয় যার মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪৭ জনের, এর মধ্যে হিলির ৫ জন। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্ত হার ৩৩.৩৩ ভাগ।

নওগাঁয় একদিনে তিন জনের মৃত্যু :

সোমাবার ২৪ ঘণ্টায় নওগাঁ জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে তিন জন মারা গেছেন। এই সময়ে আরটিপিসিআর এবং র‌্যাপিট অ্যান্টিজেনে ৪৭৪ জনের করোনা পরীক্ষায় আরও ৩৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। নওগাঁ জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ বি এম আবু হানিফ জানান, ৮ জুন সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ জন এবং নিজ বাসায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২ জন মারা গেছে। জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে । নতুন ৩৬ জনেরসহ করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ২৫৪০ জন ।

নওগাঁ পৌরসভা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় ৬ষ্ঠ দিনের মতো এক সপ্তাহের বিশেষ লকডাউন চলছে। পৌরসভার ২৩টি ও নিয়ামতপুর উপজেলায় ১৮টি পয়েন্টে পুলিশি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এছাড়া লকডাউন বাস্তবায়ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত টিম কাজ করছে।

সংক্রমণ বাড়ছে মধ্যাঞ্চলেও :

সীমান্তঘেঁষা জেলারগুলোর পাশাপাশি সংক্রমণ বাড়ছে মধ্যাঞ্চলের ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, নওগাঁসহ বেশ কয়েকটি জেলায়। সোমবার ফরিদপুরে শনাক্তের হার ছিল ৩০ শতাংশের বেশি। অবশ্য জেলাটিতে এর আগের দিন এই হার ছিল ৪০ শতাংশের বেশি। আর শনিবার ছিল ৪৮ শতাংশ। গোপালগঞ্জেও বাড়ছে করোনা রোগী। সেখানে দুদিন আগে সাত জনের শরীরে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত হওয়ায় দুই ইউনিয়নে আরও সাত দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় সংক্রমণ না বাড়লেও জেলার গ্রামাঞ্চলে বাড়ছে শনাক্ত। চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা এখন নগরী-উপজেলা কাছাকাছি অবস্থানে। এর মধ্যে একদিন নগরীর চেয়ে উপজেলার পজিটিভ রোগীর সংখ্যা বেশি পেয়েছি। যদিও সর্বশেষ গত সোমবারের নমুনা পরীক্ষায় উপজেলায় রোগীর সংখ্যা কম পেয়েছি কিন্তু এরপরও আমরা উপজেলার সংক্রমণ পরিস্থিতি খেয়াল রাখছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগে পজিটিভ রোগীর হার নগরীতে ছিল ৮০ শতাংশ আর উপজেলায় ২০ শতাংশ। আর এখন নগরীতে ৬০ শতাংশ আর গ্রামে ৪০ শতাংশ। অর্থাৎ গ্রামে সংক্রমণ আগের চেয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

করোনার বর্তমান এই পরিস্থিতির বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম গত শনিবার জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলেকে বলেন, দেশে এখন ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ছে স্থানীয়ভাবে। তবে জিনোম সিকোয়েন্স পরীক্ষা আরও বাড়াতে হবে। না হলে পরিস্থিতি পুরোপুরি বোঝা যাবে না। তার মতে, করোনা ভারতীয় হোক আর আফ্রিকান হোক। এটা নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে এখন সারা দেশে করোনা চিকিৎসা, বিশেষ করে অক্সিজেনের ওপর জোর দিতে হবে। আর স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই। মাস্ক বাধ্যতামূলকভাবে পরতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব টিকা দিতে হবে। তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে পরীক্ষায়। যত দ্রুত সম্ভব রোগী শনাক্ত করে তাদের আইসোলেশনে পাঠাতে হবে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখন।